বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজ ও বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আলমী শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ইলমি ও দাওয়াতি জীবনে রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে


হাফিজুর রহমান
হাফিজুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে

পাকিস্তানভিত্তিক বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ মুরুব্বী ও আলমী শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে তাবলিগ জামাতের সাথী ও আলেম-উলামাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ আলমী শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্বব্যাপী দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতে নিবেদিতপ্রাণ প্রবীণ আলেম মাওলানা এহসানুল হক চিরবিদায় নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরুব্বী এবং বিশ্ব তাবলিগ জামাতের পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ 'আলমী শুরা'র জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মাওলানা এহসানুল হক ছিলেন পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের অন্যতম রূপকার প্রয়াত আমির বাবু বশির সাহেবের সুযোগ্য সন্তান। উল্লেখ্য, তাঁর সম্মানিত পিতা বাংলাদেশের তাবলিগি মেহনতকে এগিয়ে নিয়ে যেতেও ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং সন্তানকে দ্বীনের খিদমতেই উৎসর্গ করেছিলেন।

শিক্ষাজীবন ও বায়আত

শিক্ষাজীবনে তিনি ভারতের বিশ্বখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুন সাহেবের সমসাময়িক ছাত্র ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের মহান শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর সরাসরি ছাত্র ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর ব্যক্তিগত খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি যোগ্যতা ও রুহানি গভীরতা দেখে হযরত শাইখুল হাদিস (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন। শিক্ষা সমাপনের পর প্রচলিত দাওয়াতি রীতি অনুযায়ী তিনি একাধারে সাত চিল্লার (২৮০ দিন) জন্য আল্লাহর রাস্তায় সময় অতিবাহিত করেন।

শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনত

দাওয়াতি চিল্লা সম্পন্ন করে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের ঐতিহাসিক নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘকাল হাদিস ও দ্বীনি শাস্ত্রের শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে হজরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি ইলম চর্চা, তালিম এবং রায়বেন্ড মারকাজের পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পরিবারের সাথে তাঁর অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

মাওলানা এহসানুল হকের ইন্তেকালে বিশ্বজুড়ে আলেম-উলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তাবলিগি মেহনতে তাঁর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। আল্লাহ তাআলা মরহুমের দ্বীনি খিদমতসমূহ কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দ্বীনি সাথীদের 'সবরে জামিল' এনায়েত করুন। আমিন।

বিষয় : পাকিস্তান তাবলিগ জামাত মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানভিত্তিক বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ মুরুব্বী ও আলমী শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে তাবলিগ জামাতের সাথী ও আলেম-উলামাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ আলমী শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্বব্যাপী দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতে নিবেদিতপ্রাণ প্রবীণ আলেম মাওলানা এহসানুল হক চিরবিদায় নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরুব্বী এবং বিশ্ব তাবলিগ জামাতের পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ 'আলমী শুরা'র জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মাওলানা এহসানুল হক ছিলেন পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের অন্যতম রূপকার প্রয়াত আমির বাবু বশির সাহেবের সুযোগ্য সন্তান। উল্লেখ্য, তাঁর সম্মানিত পিতা বাংলাদেশের তাবলিগি মেহনতকে এগিয়ে নিয়ে যেতেও ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং সন্তানকে দ্বীনের খিদমতেই উৎসর্গ করেছিলেন।

শিক্ষাজীবন ও বায়আত

শিক্ষাজীবনে তিনি ভারতের বিশ্বখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুন সাহেবের সমসাময়িক ছাত্র ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের মহান শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর সরাসরি ছাত্র ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর ব্যক্তিগত খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি যোগ্যতা ও রুহানি গভীরতা দেখে হযরত শাইখুল হাদিস (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন। শিক্ষা সমাপনের পর প্রচলিত দাওয়াতি রীতি অনুযায়ী তিনি একাধারে সাত চিল্লার (২৮০ দিন) জন্য আল্লাহর রাস্তায় সময় অতিবাহিত করেন।

শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনত

দাওয়াতি চিল্লা সম্পন্ন করে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের ঐতিহাসিক নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘকাল হাদিস ও দ্বীনি শাস্ত্রের শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে হজরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি ইলম চর্চা, তালিম এবং রায়বেন্ড মারকাজের পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পরিবারের সাথে তাঁর অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

মাওলানা এহসানুল হকের ইন্তেকালে বিশ্বজুড়ে আলেম-উলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তাবলিগি মেহনতে তাঁর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। আল্লাহ তাআলা মরহুমের দ্বীনি খিদমতসমূহ কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দ্বীনি সাথীদের 'সবরে জামিল' এনায়েত করুন। আমিন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ