শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার চরম দ্বন্দ্বের মধ্যেই কেপি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও মুখ্যমন্ত্রী বাতিলের বিকল্প খতিয়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকট, গভর্নর শাসন জারি ও জরুরি অবস্থার কথা ভাবছে পাকিস্তান সরকার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকট, গভর্নর শাসন জারি ও জরুরি অবস্থার কথা ভাবছে পাকিস্তান সরকার

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখওয়া (কেপি) প্রদেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট এবং কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সাথে জরুরি পরামর্শে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রদেশে 'গভর্নর শাসন' জারি এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শাসিত প্রাদেশিক সরকারের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের এই তীব্র মুখোমুখি অবস্থান প্রদেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

পাকিস্তানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা অঙ্গনে আবার নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র ও খাইবার পাখতুনখওয়া (কেপি) প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পর কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সাংবিধানিক পথ অবলম্বন করার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী ভবনে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি এবং কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকামের সাথে কেপি প্রদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বৈঠক পরিচালনা করেছেন। একই সাথে পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিকে অবহিত করতে এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর সাথে একটি বিশেষ বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে কেপি প্রদেশে 'গভর্নর শাসন' আরোপের পাশাপাশি সংবিধানের জরুরি ধারা প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। পিটিআই-এর পক্ষ থেকে ইসলামাবাদে ঘোষিত দীর্ঘ পদযাত্রার কর্মসূচি ঘিরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। যদিও প্রতিবাদ কর্মসূচি ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার টানাপোড়েন কমেনি।

রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে—প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে অযোগ্য ঘোষণা, মুখ্যমন্ত্রী বদল, ইন-হাউস পরিবর্তন, প্রাদেশিক সমাবেশ ভেঙে দেওয়া কিংবা সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মোট সদস্যের ২০ শতাংশ স্বাক্ষর নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হলে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে একক এজেন্ডায় অধিবেশন ডাকতে হয় এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাব পাস হলে স্পিকার নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করেন।

এছাড়া, সংবিধানের ১৩০(৭) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গভর্নর যেকোনো সময় মুখ্যমন্ত্রীকে আস্থা ভোট নিতে বলতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতার আস্থা হারিয়েছেন বলে মনে করলে গভর্নর তাকে বিধানসভায় সংখ্যাধিক্য প্রমাণের নির্দেশনা দিতে পারেন।

রাজনৈতিক এই সংঘাত এমন এক সময়ে তুঙ্গে উঠেছে যখন খাইবার পাখতুনখওয়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাত পুলিশ লাইনে হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্যসহ ২১ জন নিহত হন। এর কিছুদিন পরেই এক আইইডি (IED) হামলায় ৬ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। ২৫ সেপ্টেম্বর পেশোয়ারে একটি সিটিডি (CTD) অভিযানে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারীর তৎপরতা নস্যাৎ করা হলেও এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। পরদিনই ডেরা ইসমাইল খানে যৌথ চেকপোস্টে ঘটা ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন, যার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জঙ্গি হামলার জোড়া সংকটে থাকা খাইবার পাখতুনখওয়ার নাগরিক অধিকার এবং সার্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিশ্লেষক মহল।

বিষয় : পাকিস্তান রাষ্ট্রপতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকট, গভর্নর শাসন জারি ও জরুরি অবস্থার কথা ভাবছে পাকিস্তান সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখওয়া (কেপি) প্রদেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট এবং কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সাথে জরুরি পরামর্শে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রদেশে 'গভর্নর শাসন' জারি এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শাসিত প্রাদেশিক সরকারের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের এই তীব্র মুখোমুখি অবস্থান প্রদেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

পাকিস্তানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা অঙ্গনে আবার নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র ও খাইবার পাখতুনখওয়া (কেপি) প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পর কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সাংবিধানিক পথ অবলম্বন করার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী ভবনে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি এবং কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকামের সাথে কেপি প্রদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বৈঠক পরিচালনা করেছেন। একই সাথে পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিকে অবহিত করতে এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর সাথে একটি বিশেষ বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে কেপি প্রদেশে 'গভর্নর শাসন' আরোপের পাশাপাশি সংবিধানের জরুরি ধারা প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। পিটিআই-এর পক্ষ থেকে ইসলামাবাদে ঘোষিত দীর্ঘ পদযাত্রার কর্মসূচি ঘিরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। যদিও প্রতিবাদ কর্মসূচি ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যকার টানাপোড়েন কমেনি।

রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে—প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে অযোগ্য ঘোষণা, মুখ্যমন্ত্রী বদল, ইন-হাউস পরিবর্তন, প্রাদেশিক সমাবেশ ভেঙে দেওয়া কিংবা সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মোট সদস্যের ২০ শতাংশ স্বাক্ষর নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হলে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে একক এজেন্ডায় অধিবেশন ডাকতে হয় এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাব পাস হলে স্পিকার নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করেন।

এছাড়া, সংবিধানের ১৩০(৭) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গভর্নর যেকোনো সময় মুখ্যমন্ত্রীকে আস্থা ভোট নিতে বলতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতার আস্থা হারিয়েছেন বলে মনে করলে গভর্নর তাকে বিধানসভায় সংখ্যাধিক্য প্রমাণের নির্দেশনা দিতে পারেন।

রাজনৈতিক এই সংঘাত এমন এক সময়ে তুঙ্গে উঠেছে যখন খাইবার পাখতুনখওয়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাত পুলিশ লাইনে হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্যসহ ২১ জন নিহত হন। এর কিছুদিন পরেই এক আইইডি (IED) হামলায় ৬ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। ২৫ সেপ্টেম্বর পেশোয়ারে একটি সিটিডি (CTD) অভিযানে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারীর তৎপরতা নস্যাৎ করা হলেও এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। পরদিনই ডেরা ইসমাইল খানে যৌথ চেকপোস্টে ঘটা ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন, যার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জঙ্গি হামলার জোড়া সংকটে থাকা খাইবার পাখতুনখওয়ার নাগরিক অধিকার এবং সার্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিশ্লেষক মহল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ