করাচিতে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে (পিএসএক্স) 'নয়া নাজিমাবাদ অ্যাপার্টমেন্টস আরইআইটি' (REIT)-এর তালিকাভুক্তকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দশক ধরে ভর্তুকি পেয়েও রফতানি বাড়াতে ব্যর্থ হওয়া শিল্পখাতগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন।
রফতানি প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা না রেখে বহু বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ভোগ করে আসা শিল্পখাতগুলোর দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কেবল ভর্তুকির ওপর ভর করে জাতীয় অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না; বরং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে রফতানিমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার করাচিতে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে (পিএসএক্স) 'নয়া নাজিমাবাদ অ্যাপার্টমেন্টস আরইআইটি' (Real Estate Investment Trust)-এর তালিকাভুক্তকরণ সূচনাকারী ঘণ্টা বাজানো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেটে আবাসন ও নির্মাণ খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনার ইতিবাচক ফল আসতে শুরু করেছে উল্লেখ করে শেহবাজ শরিফ বলেন, করাচির নির্মাণখাতে ইতিমধ্যেই পুনর্জাগরণ দেখা যাচ্ছে। তবে ১৯৬০-এর দশক থেকে চলে আসা একাধিক শিল্পখাতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬০-এর দশক থেকে দেশের একাধিক শিল্পখাত ধারাবাহিকভাবে সরকারি ভর্তুকি ও সুবিধা ভোগ করে আসছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা রফতানি বাড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আমদানির বিকল্প দেশীয় পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এটি একটি তিতা সত্য এবং আমরা যদি সামনের দিকে এগোতে চাই, তবে এই ভুল নীতি সংশোধন করতেই হবে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরকালে তিনি বিশ্বখ্যাত ব্যাংকার ও আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
শেহবাজ শরিফ আরও উল্লেখ করেন, বাজেটে ২.৩ ট্রিলিয়ন রুপির কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক এই ইতিবাচক ধারায় ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে একই উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছাবে, যা গত বছর ৩.৭ শতাংশ ছিল।
আওরঙ্গজেব সতর্ক করে বলেন, সরকার চাইলেই অতিরিক্ত ভোগের ওপর ভিত্তি করে সাময়িকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, কিন্তু তা লেনদেনের ভারসাম্যে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে এবং অর্থনীতিকে পুনরায় অস্থিরতার চক্রে ফেলে দেবে। তাই সরকার কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির বদলে স্থায়িত্বশীল রফতানিমুখী প্রবৃদ্ধির পথ বেছে নিয়েছে।
আয়কর রিটার্ন জমাদানকারীর সংখ্যা ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে নয়া নাজিমাবাদের চেয়ারম্যান আরিফ হাবিব বলেন, বর্তমানে রেমিক্যান্স ও রিজার্ভ রেকর্ড মাত্রায় রয়েছে। বিশ্ববাজারে পাকিস্তানের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ফিরছে।
সমাপনী বক্তব্যে শেহবাজ শরিফ ও আওরঙ্গজেব উভয়ই বলেন, টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করা সরকারের কাজ এবং তারা নীতিগত পরিবেশ তৈরি করে দেবেন, কিন্তু মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতকেই অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে।
মতামত