শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জনে তাওহীদী জনতার পক্ষে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে মাজহাব ও আক্বীদাবিরোধী কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান ছারছীনার পীর



ধর্ম মন্ত্রণালয়ে মাজহাব ও আক্বীদাবিরোধী কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান ছারছীনার পীর

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবরে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন। তিনি এক বিবৃতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়া ও ঐতিহ্যবাহী মাজহাবি ভাবধারার দেশ। তাই জনগণের ঈমান, আক্বীদা ও ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষা করে এ মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ও শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি নির্বাচন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবরের জের ধরে দেশজুড়ে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)।

এক বিশেষ বিবৃতিতে ছারছীনার পীর ছাহেব বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই পীর-আউলিয়া ও ঐতিহ্যবাহী মাজহাবি ঐতিহ্যের দেশ। এ দেশের কোটি কোটি মানুষের ঈমান-আক্বীদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দীর্ঘদিনের সুন্নী মাজহাবি বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত শীর্ষ ব্যক্তিদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আক্বীদা ও মাজহাবি অবস্থানের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনোভাবেই মাজহাব ও আক্বীদাবিরোধী কিংবা বিভ্রান্তিকর মতাদর্শের কোনো ব্যক্তিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বসানো উচিত নয়। দেশের তাওহীদী জনতা তাদের ঈমান, আক্বীদা, দ্বীন ও ধর্মীয় আদর্শের সুরক্ষায় অত্যন্ত সচেতন। ফলে যেকোনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যগত বিশ্বাসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ছারছীনার পীর ছাহেব বলেন, “আপনাকে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দেশের সাধারণ তাওহীদী জনতা কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য ভোট দেয়নি; তারা ভোট দিয়েছে নিজেদের দ্বীন, সুন্নী আক্বীদা ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক-ধর্মীয় আদর্শ নিরাপত্তার প্রত্যাশায়। অতএব, জনগণের প্রদত্ত আমানত ও রাজনৈতিক প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘটানো জরুরি।”

বিবৃতিতে তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামো নয়। এর সাথে দেশের হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা, হেফজখানা, পবিত্র হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামী ফাউন্ডেশন ও বিশাল ওয়াক্ফ এস্টেটসহ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মৌলিক ধর্মীয় জীবন জড়িত। তাই এমন একজন ব্যক্তিত্বকে এই মন্ত্রণালয়ের হাল ধরতে দেওয়া উচিত, যিনি দেশের মূলধারার আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েক ও ধর্মপ্রাণ আমজনতার ঈমানী বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক শান্তি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঈমান-আক্বীদার সুরক্ষার স্বার্থে সরকার প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান ছারছীনার পীর ছাহেব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার দেশের বিশাল ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর ঈমানী আকাক্সক্ষাকে সম্মান জানিয়ে একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বিষয় : ধর্ম মন্ত্রণালয় মাজহাব আক্বীদাবিরোধী

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


ধর্ম মন্ত্রণালয়ে মাজহাব ও আক্বীদাবিরোধী কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান ছারছীনার পীর

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবরে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন। তিনি এক বিবৃতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়া ও ঐতিহ্যবাহী মাজহাবি ভাবধারার দেশ। তাই জনগণের ঈমান, আক্বীদা ও ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষা করে এ মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ও শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি নির্বাচন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবরের জের ধরে দেশজুড়ে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)।

এক বিশেষ বিবৃতিতে ছারছীনার পীর ছাহেব বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই পীর-আউলিয়া ও ঐতিহ্যবাহী মাজহাবি ঐতিহ্যের দেশ। এ দেশের কোটি কোটি মানুষের ঈমান-আক্বীদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দীর্ঘদিনের সুন্নী মাজহাবি বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত শীর্ষ ব্যক্তিদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আক্বীদা ও মাজহাবি অবস্থানের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনোভাবেই মাজহাব ও আক্বীদাবিরোধী কিংবা বিভ্রান্তিকর মতাদর্শের কোনো ব্যক্তিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বসানো উচিত নয়। দেশের তাওহীদী জনতা তাদের ঈমান, আক্বীদা, দ্বীন ও ধর্মীয় আদর্শের সুরক্ষায় অত্যন্ত সচেতন। ফলে যেকোনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যগত বিশ্বাসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ছারছীনার পীর ছাহেব বলেন, “আপনাকে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দেশের সাধারণ তাওহীদী জনতা কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য ভোট দেয়নি; তারা ভোট দিয়েছে নিজেদের দ্বীন, সুন্নী আক্বীদা ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক-ধর্মীয় আদর্শ নিরাপত্তার প্রত্যাশায়। অতএব, জনগণের প্রদত্ত আমানত ও রাজনৈতিক প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘটানো জরুরি।”

বিবৃতিতে তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামো নয়। এর সাথে দেশের হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা, হেফজখানা, পবিত্র হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামী ফাউন্ডেশন ও বিশাল ওয়াক্ফ এস্টেটসহ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মৌলিক ধর্মীয় জীবন জড়িত। তাই এমন একজন ব্যক্তিত্বকে এই মন্ত্রণালয়ের হাল ধরতে দেওয়া উচিত, যিনি দেশের মূলধারার আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েক ও ধর্মপ্রাণ আমজনতার ঈমানী বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক শান্তি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঈমান-আক্বীদার সুরক্ষার স্বার্থে সরকার প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান ছারছীনার পীর ছাহেব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার দেশের বিশাল ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর ঈমানী আকাক্সক্ষাকে সম্মান জানিয়ে একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ