মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের মিয়াং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামের একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে নৃশংস বোমাহামলা চালিয়েছে। শুক্রবারের এ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালে থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই গ্রামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে সরাসরি বেসামরিকদের ওপর এই বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী।
মিয়ানমারে সেনা জান্তার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাগাইং অঞ্চলের মিয়াং টাউনশিপে একটি বৌদ্ধ বিহার লক্ষ্য করে সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হলে রক্তক্ষয়ী এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংগঠন (সিডিএসওএম) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বৌদ্ধদের ধর্মীয় বর্ষাবাস পালন উপলক্ষে বিহার ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ অবস্থান করছিলেন। এ সময় জান্তা সরকারের একটি যুদ্ধবিমান প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ ও নিকটস্থ একটি বসতবাড়ি ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলেই ১৪ জন প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও মিয়ানমারের সামরিক জান্তা স্বভাবসুলভভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা বরাবরই দাবি করে আসছে যে কেবল সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়। বাস্তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে অসাংবিধানিকভাবে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই জান্তা বাহিনী নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চল সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ও গণতন্ত্রকামী সশস্ত্র প্রতিরোধের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এলাকাটিতে জান্তার বিমান হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা 'ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার' (আইআইএমএম) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, দেশটিতে সেনা জান্তার সামরিক বিমান হামলার প্রবণতা ও নৃশংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মিয়ানমারজুড়ে চলমান এই সামরিক আগ্রাসন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও সংঘাত লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিকের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
বিষয় : মিয়ানমার বিমান হামলা

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের মিয়াং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামের একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে নৃশংস বোমাহামলা চালিয়েছে। শুক্রবারের এ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালে থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই গ্রামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে সরাসরি বেসামরিকদের ওপর এই বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী।
মিয়ানমারে সেনা জান্তার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাগাইং অঞ্চলের মিয়াং টাউনশিপে একটি বৌদ্ধ বিহার লক্ষ্য করে সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হলে রক্তক্ষয়ী এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংগঠন (সিডিএসওএম) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বৌদ্ধদের ধর্মীয় বর্ষাবাস পালন উপলক্ষে বিহার ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ অবস্থান করছিলেন। এ সময় জান্তা সরকারের একটি যুদ্ধবিমান প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ ও নিকটস্থ একটি বসতবাড়ি ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলেই ১৪ জন প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও মিয়ানমারের সামরিক জান্তা স্বভাবসুলভভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা বরাবরই দাবি করে আসছে যে কেবল সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়। বাস্তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে অসাংবিধানিকভাবে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই জান্তা বাহিনী নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চল সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ও গণতন্ত্রকামী সশস্ত্র প্রতিরোধের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এলাকাটিতে জান্তার বিমান হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা 'ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার' (আইআইএমএম) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, দেশটিতে সেনা জান্তার সামরিক বিমান হামলার প্রবণতা ও নৃশংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মিয়ানমারজুড়ে চলমান এই সামরিক আগ্রাসন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও সংঘাত লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিকের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন