সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিনের ভূমিতে একক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের নীতি পাস করল ব্রিটেনের শীর্ষ পরিবেশবাদী দলটি

জায়নবাদ কে ‘বর্ণবাদ’ ঘোষণা করল যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জায়নবাদ কে ‘বর্ণবাদ’ ঘোষণা করল যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি

যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনৈতিক দল ‘গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস’ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে 'জায়নবাদ একটি বর্ণবাদী মতাদর্শ' (Zionism is Racism) সংক্রান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ব্রাইটনে দলের বার্ষিক সম্মেলনে ১০২২-৮১৩ ভোটে নীতিটি অনুমোদিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে গ্রিন পার্টিই প্রথম সুস্পষ্ট জায়নবাদবিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। এ সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেলেও প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দখলদার ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাজ্য ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টি তাদের দলীয় নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, 'জায়নবাদ হলো বর্ণবাদ'। দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ব্রাইটনে অনুষ্ঠিত দলের বার্ষিক সম্মেলনে দীর্ঘ বিতর্ক ও ভোটাভুটির পর এই নীতি পাস হয়। ৮১৩ জন প্রতিনিধির বিপক্ষ ভোটের বিপরীতে ১,০২২ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে গ্রিন পার্টি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রধান দল হিসেবে প্রকাশ্যে জায়নবাদবিরোধী অবস্থান নিল।

প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ও নীতিগত রূপরেখা

'গ্রিন্স ফর ফিলিস্তিন' (Greens for Palestine) নামক দলীয় ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীর উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জায়নবাদকে একটি 'জাতিগত-জাতীয়তাবাদী ও ঔপনিবেশিক নীতি' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের উৎখাত ও বর্ণবাদী বৈষম্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।

প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়:

  • বর্ণবাদের মুখোমুখি বিশ্লেষণ: জায়নবাদকে অন্যান্য বর্ণবাদী আদর্শের মতোই চিহ্নিত ও মোকাবিলা করতে হবে।
  • একক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র: ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটিমাত্র বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
  • ইহুদাবাদ ও জায়নবাদের পৃথকীকরণ: দলীয় নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, 'সকল ইহুদি জায়নবাদ নন এবং সকল জায়নবাদ ইহুদি নন।' ফলে জায়নবাদের বিরোধিতা করা আর ইহুদিবিদ্বেষ (Anti-Semitism) এক বিষয় নয়।
  • ইসরাইলবিরোধী অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা: বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (BDS) আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চালুর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ও দলীয় মেরুকরণ

সম্মেলনে এই ভোট পাসের সময় দলীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মীদের মাঝে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যায়। পার্টির সহ-উপনেতা মতিন আলী (Mothin Ali) প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, 'জায়নবাদ মানবতাবিরোধী জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার ভিত্তিপ্রস্তর।' তবে অপর সহ-উপনেতা র‍্যাচেল মিলওয়ার্ড এবং পার্লামেন্টের ৫ জন এমপির মধ্যে ৪ জন (যার মধ্যে সাবেক দলীয় প্রধান অ্যাড্রিয়ান রামসে অন্তর্ভুক্ত) প্রস্তাবের ব্যবহৃত পরিভাষাকে 'সমস্যামূলক' উল্লেখ করে বিপক্ষে অবস্থান নেন। উপ-নেতা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক মুখপাত্র জ্যাক পোলানস্কি নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় সরাসরি ভোটদানে অংশ নেননি।

ভোটগ্রহণ শেষে গ্রিন পার্টির আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র বলেন, 'দলের সদস্যরা জায়নবাদের বর্ণবাদী রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। এটি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকারের পক্ষে আমাদের সুদৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।'

ইসরাইলের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিষোদ্গার

গ্রিন পার্টির এই প্রস্তাবে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইসরাইল সরকার। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ দেয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষোদ্গার করে বলেছে যে, 'যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি হামাসের পতাকার রঙ ও বর্ণবাদী মতাদর্শ গ্রহণ করেছে।' দখলদার সরকারের দাবি, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানায়।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মূল নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে যেকোনো বর্ণবাদী মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানবাধিকারের প্রধান শর্ত। যুক্তরাজ্যের একটি ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল কর্তৃক জায়নবাদকে বর্ণবাদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা বর্ণবৈষম্য ও দখলাদারিত্বের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

বিষয় : যুক্তরাজ্য গ্রিন পার্টি জায়নবাদ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


জায়নবাদ কে ‘বর্ণবাদ’ ঘোষণা করল যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনৈতিক দল ‘গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস’ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে 'জায়নবাদ একটি বর্ণবাদী মতাদর্শ' (Zionism is Racism) সংক্রান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ব্রাইটনে দলের বার্ষিক সম্মেলনে ১০২২-৮১৩ ভোটে নীতিটি অনুমোদিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে গ্রিন পার্টিই প্রথম সুস্পষ্ট জায়নবাদবিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। এ সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেলেও প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দখলদার ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাজ্য ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টি তাদের দলীয় নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, 'জায়নবাদ হলো বর্ণবাদ'। দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ব্রাইটনে অনুষ্ঠিত দলের বার্ষিক সম্মেলনে দীর্ঘ বিতর্ক ও ভোটাভুটির পর এই নীতি পাস হয়। ৮১৩ জন প্রতিনিধির বিপক্ষ ভোটের বিপরীতে ১,০২২ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে গ্রিন পার্টি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রধান দল হিসেবে প্রকাশ্যে জায়নবাদবিরোধী অবস্থান নিল।

প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ও নীতিগত রূপরেখা

'গ্রিন্স ফর ফিলিস্তিন' (Greens for Palestine) নামক দলীয় ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীর উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জায়নবাদকে একটি 'জাতিগত-জাতীয়তাবাদী ও ঔপনিবেশিক নীতি' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের উৎখাত ও বর্ণবাদী বৈষম্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।

প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়:

  • বর্ণবাদের মুখোমুখি বিশ্লেষণ: জায়নবাদকে অন্যান্য বর্ণবাদী আদর্শের মতোই চিহ্নিত ও মোকাবিলা করতে হবে।
  • একক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র: ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটিমাত্র বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
  • ইহুদাবাদ ও জায়নবাদের পৃথকীকরণ: দলীয় নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, 'সকল ইহুদি জায়নবাদ নন এবং সকল জায়নবাদ ইহুদি নন।' ফলে জায়নবাদের বিরোধিতা করা আর ইহুদিবিদ্বেষ (Anti-Semitism) এক বিষয় নয়।
  • ইসরাইলবিরোধী অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা: বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (BDS) আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চালুর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ও দলীয় মেরুকরণ

সম্মেলনে এই ভোট পাসের সময় দলীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মীদের মাঝে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যায়। পার্টির সহ-উপনেতা মতিন আলী (Mothin Ali) প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, 'জায়নবাদ মানবতাবিরোধী জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার ভিত্তিপ্রস্তর।' তবে অপর সহ-উপনেতা র‍্যাচেল মিলওয়ার্ড এবং পার্লামেন্টের ৫ জন এমপির মধ্যে ৪ জন (যার মধ্যে সাবেক দলীয় প্রধান অ্যাড্রিয়ান রামসে অন্তর্ভুক্ত) প্রস্তাবের ব্যবহৃত পরিভাষাকে 'সমস্যামূলক' উল্লেখ করে বিপক্ষে অবস্থান নেন। উপ-নেতা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক মুখপাত্র জ্যাক পোলানস্কি নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় সরাসরি ভোটদানে অংশ নেননি।

ভোটগ্রহণ শেষে গ্রিন পার্টির আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র বলেন, 'দলের সদস্যরা জায়নবাদের বর্ণবাদী রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। এটি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকারের পক্ষে আমাদের সুদৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।'

ইসরাইলের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিষোদ্গার

গ্রিন পার্টির এই প্রস্তাবে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইসরাইল সরকার। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ দেয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষোদ্গার করে বলেছে যে, 'যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি হামাসের পতাকার রঙ ও বর্ণবাদী মতাদর্শ গ্রহণ করেছে।' দখলদার সরকারের দাবি, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানায়।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মূল নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে যেকোনো বর্ণবাদী মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানবাধিকারের প্রধান শর্ত। যুক্তরাজ্যের একটি ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল কর্তৃক জায়নবাদকে বর্ণবাদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা বর্ণবৈষম্য ও দখলাদারিত্বের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ