ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের মুখে থাকা গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট নিরসনে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরবের 'কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র' (KSrelief)। সোমবার (৫ অক্টোবর) উত্তর গাজার আল-মাশতাল এলাকার বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে খাদ্যসামগ্রী এবং খাবার পানি বিতরণ করা হয়। সংস্থাটির ‘সালাতুল খায়ের’ প্রকল্পের আওতায় এই ত্রাণ প্রদান করা হয়, যা ফিলিস্তিনিদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উত্তর গাজার আল-মাশতাল এলাকার শরণার্থী শিবিরে কিং সালমান ত্রাণ কেন্দ্র খাদ্যঝুড়ি এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ করেছে। এই খাদ্য ও পানি সহায়তার মাধ্যমে গাজার বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি সৌদি সরকারের ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য পরিচালিত ধারাবাহিক গণ-ত্রাণ অভিযানের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। গাজা উপত্যকায় সৌদি ত্রাণ কেন্দ্রের স্থানীয় অংশীদার ‘সৌদি সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ’-এর মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ত্রাণ সহায়তাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিরা সৌদি আরব সরকার এবং কিং সালমান রিলিফ সেন্টারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, চরম মানবিক সংকটের এই সময়ে তাদের কাছে এই ত্রাণ পৌঁছানো কেবল শারীরিক চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং তাদের মনে বেঁচে থাকার নতুন আশা জাগিয়ে তুলছে এবং তাদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করছে।
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট নিরসনেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি। গাজা উপত্যকার বিভিন্ন গভর্নরেটে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের জন্য জরুরি মানবিক কর্মসূচির অধীনে ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) লিটার পানি পাম্প ও বিতরণ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় গাজার অধিকাংশ পানি সরবরাহ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিশুদ্ধ পানির সংকট। এ অবস্থায় কিং সালমান ত্রাণ কেন্দ্র ফিলিস্তিনিদের জীবনধারণের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অটল প্রতিরোধ ও স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করতে তাদের এই ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মতামত