মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সার্বভৌমত্ব উদ্ধার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্দখলে প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পর একাধিক ফ্রন্টে যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণ; লোহিত সাগর উপকূল ও কৌশলগত বাব আল-মানদাব প্রণালী ঘিরে সামরিক উত্তেজনা চরম শিখায়।

ইয়েমেনে হুথিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান: ১,১২২ অভিযানে ১৭৪৭ যোদ্ধা নিহত


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনে হুথিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান: ১,১২২ অভিযানে ১৭৪৭ যোদ্ধা নিহত

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখল থেকে হাতছাড়া হওয়া ভূখণ্ড ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরুদ্ধার করতে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। প্রেসিডেন্ট নির্দেশিত এই সমন্বিত অভিযানে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ১,১২২টি সফল সামরিক কৌশলগত হামলা পরিচালনা করেছে, যাতে ১,৭৪৭ জন হুথি যোদ্ধা নিহত/অক্ষম হয়েছে এবং ৩৬৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অকেজো করা হয়েছে। সাদাহ, আল-জাওফ, তাইজ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, রকেট ও আর্টিলারির সমন্বয়ে এই হামলা পরিচালিত হয়।

দীর্ঘ এক দশক ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের সার্বিক পরিস্থিতি পুনরায় চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে সানা দখলকারী ইরান সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী সম্প্রতি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের মোখা নগরী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ বাব আল-মানদাব প্রণালীর নিকটবর্তী মাইয়ুন দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইয়েমেন সরকার এই সর্বাত্মক সেনা অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাজেদ আব্দুল্লাহ আল-নুজাইলি সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (PLC) চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমির নির্দেশের পর থেকেই সরকারি বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হুথি আস্তানাগুলোতে জোরালো আক্রমণ শুরু করেছে।

অভিযানের পরিধি ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি

সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই অভিযানে গোলন্দাজ বাহিনী, রকেট লঞ্চার, ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও স্নাইপার ইউনিটের সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে। সাঁজোয়া বহর, রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, অস্ত্রাগার, সামরিক রসদ সরবরাহ পথ এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ বিদ্রোহীদের ৩৬৪টি সামরিক যান ও পরিবহন সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ধ্বংস বা বিকল করে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সাদাহ, আল-জাওফ, তাইজ প্রদেশ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় ফ্রন্টজুড়ে হুথিদের প্রধান শক্তঘাঁটি ও শক্তিবৃদ্ধির রুটগুলোতে এই ১,১২২টি হামলা আঘাত হানে, যার ফলে ১,৭৪৭ জন হুথি সদস্য নিষ্ক্রিয় বা নিহত হয়।

ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হুথিদের দখলদারিত্ব থেকে সাধারণ নাগরিকদের মুক্ত করা, নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং পুরো ইয়েমেনি ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে, গৃহযুদ্ধে সাধারণ ইয়েমেনি জনগণের চরম মানবিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। ইয়েমেন সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি নস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত এই সশস্ত্র অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয় : ইয়েমেন হুথি বিদ্রোহী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


ইয়েমেনে হুথিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান: ১,১২২ অভিযানে ১৭৪৭ যোদ্ধা নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখল থেকে হাতছাড়া হওয়া ভূখণ্ড ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরুদ্ধার করতে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। প্রেসিডেন্ট নির্দেশিত এই সমন্বিত অভিযানে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ১,১২২টি সফল সামরিক কৌশলগত হামলা পরিচালনা করেছে, যাতে ১,৭৪৭ জন হুথি যোদ্ধা নিহত/অক্ষম হয়েছে এবং ৩৬৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অকেজো করা হয়েছে। সাদাহ, আল-জাওফ, তাইজ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, রকেট ও আর্টিলারির সমন্বয়ে এই হামলা পরিচালিত হয়।

দীর্ঘ এক দশক ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের সার্বিক পরিস্থিতি পুনরায় চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে সানা দখলকারী ইরান সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী সম্প্রতি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের মোখা নগরী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ বাব আল-মানদাব প্রণালীর নিকটবর্তী মাইয়ুন দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইয়েমেন সরকার এই সর্বাত্মক সেনা অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাজেদ আব্দুল্লাহ আল-নুজাইলি সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (PLC) চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমির নির্দেশের পর থেকেই সরকারি বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হুথি আস্তানাগুলোতে জোরালো আক্রমণ শুরু করেছে।

অভিযানের পরিধি ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি

সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই অভিযানে গোলন্দাজ বাহিনী, রকেট লঞ্চার, ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও স্নাইপার ইউনিটের সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে। সাঁজোয়া বহর, রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, অস্ত্রাগার, সামরিক রসদ সরবরাহ পথ এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ বিদ্রোহীদের ৩৬৪টি সামরিক যান ও পরিবহন সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ধ্বংস বা বিকল করে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সাদাহ, আল-জাওফ, তাইজ প্রদেশ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় ফ্রন্টজুড়ে হুথিদের প্রধান শক্তঘাঁটি ও শক্তিবৃদ্ধির রুটগুলোতে এই ১,১২২টি হামলা আঘাত হানে, যার ফলে ১,৭৪৭ জন হুথি সদস্য নিষ্ক্রিয় বা নিহত হয়।

ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হুথিদের দখলদারিত্ব থেকে সাধারণ নাগরিকদের মুক্ত করা, নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং পুরো ইয়েমেনি ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে, গৃহযুদ্ধে সাধারণ ইয়েমেনি জনগণের চরম মানবিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। ইয়েমেন সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি নস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত এই সশস্ত্র অভিযান অব্যাহত থাকবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ