বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একাধিক গভর্নরেটে ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় অভিযান; বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও ফিলিস্তিনিদের মৌলিক চলাচলে কঠোর অবরোধ আরোপ।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড়: প্রতিবন্ধী নারী ও সাবেক বন্দিসহ ৭ জন গ্রেপ্তার



পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড়: প্রতিবন্ধী নারী ও সাবেক বন্দিসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী এবং উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর থেকে জেনিন, হেবরন, বেথলেহেম ও কালকিলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এক প্রতিবন্ধী নারী ও সাবেক বন্দিসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলা ও মৌলিক চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সুপেয় পানির উৎস দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইসরায়েলি বর্ণবাদী সরকারের অত্যাচার ও দমন-পীড়ন নতুন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। বুধবার ফিলিস্তিনি বন্দি ক্লাব এবং স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, জেনিন গভর্নরেটে রাতভর বসতবাড়িতে তছনছ ও অভিযান চালিয়ে এক নারী এবং পূর্বে ইসরায়েলি গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করা এক যুবকসহ মোট তিন ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

একইভাবে কালকিলিয়ার আজজুন শহর এবং বেথলেহেমের দক্ষিণে অবস্থিত দেইশেহ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও দুই যুবককে। শুধু গ্রেপ্তারেই ক্ষান্ত হয়নি দখলদাররা; হেবরন প্রদেশের আল-ধাহিরিয়া ও আল-ফাওয়ার শিবিরে অভিযান চালানোর সময় সাবেক এক বন্দিসহ দুই ফিলিস্তিনিকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়।

ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবন অচল করতে পুরো হেবরন এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও শিবিরের সংযোগস্থলগুলোতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার গেট ও মাটির প্রতিবন্ধক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার বাহিনী। আল-আররুব শিবির ও বেইত উম্মার শহরের মধ্যবর্তী প্রধান পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চরম আকার ধারণ করেছে। আল-উবাইদিয়া শহর থেকে ফিলিস্তিনিদের গবাদি পশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। উত্তর জর্ডান উপত্যকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের স্বার্থে বুলডোজার দিয়ে ঐতিহাসিক আল-হাম্মা ঝর্ণার চারপাশ অবৈধভাবে দখল ও খনন শুরু করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি পশুপালকদের পানি পানে বাধা দিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের এক গভীর চক্রান্ত চালাচ্ছে এই উগ্রপন্থীরা।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধেকের মধ্যেই উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা ৩,৪৮৮টি সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। যার ফলে অন্তত ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২৬টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায় সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে চিরতরে উৎখাত করার লক্ষ্যে এমন পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিষয় : ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড়: প্রতিবন্ধী নারী ও সাবেক বন্দিসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী এবং উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর থেকে জেনিন, হেবরন, বেথলেহেম ও কালকিলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এক প্রতিবন্ধী নারী ও সাবেক বন্দিসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলা ও মৌলিক চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সুপেয় পানির উৎস দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইসরায়েলি বর্ণবাদী সরকারের অত্যাচার ও দমন-পীড়ন নতুন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। বুধবার ফিলিস্তিনি বন্দি ক্লাব এবং স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, জেনিন গভর্নরেটে রাতভর বসতবাড়িতে তছনছ ও অভিযান চালিয়ে এক নারী এবং পূর্বে ইসরায়েলি গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করা এক যুবকসহ মোট তিন ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

একইভাবে কালকিলিয়ার আজজুন শহর এবং বেথলেহেমের দক্ষিণে অবস্থিত দেইশেহ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও দুই যুবককে। শুধু গ্রেপ্তারেই ক্ষান্ত হয়নি দখলদাররা; হেবরন প্রদেশের আল-ধাহিরিয়া ও আল-ফাওয়ার শিবিরে অভিযান চালানোর সময় সাবেক এক বন্দিসহ দুই ফিলিস্তিনিকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়।

ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবন অচল করতে পুরো হেবরন এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও শিবিরের সংযোগস্থলগুলোতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার গেট ও মাটির প্রতিবন্ধক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার বাহিনী। আল-আররুব শিবির ও বেইত উম্মার শহরের মধ্যবর্তী প্রধান পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চরম আকার ধারণ করেছে। আল-উবাইদিয়া শহর থেকে ফিলিস্তিনিদের গবাদি পশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। উত্তর জর্ডান উপত্যকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের স্বার্থে বুলডোজার দিয়ে ঐতিহাসিক আল-হাম্মা ঝর্ণার চারপাশ অবৈধভাবে দখল ও খনন শুরু করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি পশুপালকদের পানি পানে বাধা দিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের এক গভীর চক্রান্ত চালাচ্ছে এই উগ্রপন্থীরা।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধেকের মধ্যেই উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা ৩,৪৮৮টি সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। যার ফলে অন্তত ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২৬টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায় সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে চিরতরে উৎখাত করার লক্ষ্যে এমন পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ