শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামাবাদের শীর্ষ সরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ওয়ার্ডে ভোরে অগ্নিকাণ্ড; নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে গাফিলতি ও ভবন কোড ভঙ্গের ফলেই বারবার এমন দুর্ঘটনা, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ।

ইসলামাবাদে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শিশু ওয়ার্ডে দগ্ধ হয়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

ইসলামাবাদে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শিশু ওয়ার্ডে দগ্ধ হয়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শীর্ষ সরকারি হাসপাতাল 'পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস' (পিআইএমএস)-এর মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে বুধবার ভোরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অন্তত ১৪ জন নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দুর্বল ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র 'পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস' (পিআইএমএস)-এর মাতৃত্ব ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে গোটা পাকিস্তানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু আগে (গ্রিনিচ মান সময় ০২০০ টা) হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ (MCH) ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো ওয়ার্ড, যেখানে নবজাতক ও শিশুরা চিকিৎসাধীন ছিল।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের বয়স ও পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি এবং বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে।

ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার সোহেল আশরাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান, জরুরি ফোন পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পুলিশকে নিয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ১৪টি মাসুম প্রাণ ঝরে যায়।

পাকিস্তানে বৃহৎ ভবন ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। দেশটির দুর্বল ভবন নিরাপত্তা আইন, অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে নিয়মিত এ ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাধারণ নাগরিক সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত এসব অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও বাস্তবায়নে প্রশাসনের উদাসীনতা স্পষ্ট।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই বন্দরনগরী করাচির এক শপিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৬৫ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এর আগে ২০২৩ সালেও করাচির অন্য একটি শপিং মল আগুনে পুড়ে ১১ জন মারা যান। এছাড়া ২০২১ সালে শহরের একটি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে ১৬ জন শ্রমিক নিহত হন। পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প ট্র্যাজেডিগুলোর একটি ঘটেছিল ২০১২ সালে করাচির বলদিয়া শহরের পোশাক কারখানায়, যেখানে ফায়ার এস্কেপ বা জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় ২৫০ জনেরও বেশি শ্রমিক জ্যান্ত পুড়ে মারা যান।

পাবলিক হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন নিরাপত্তা ত্রুটি ও শিশুর প্রাণহানি পাকিস্তানি চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অবহেলাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিষয় : পাকিস্তান অগ্নিকাণ্ড ইসলামাবাদ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ইসলামাবাদে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শিশু ওয়ার্ডে দগ্ধ হয়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শীর্ষ সরকারি হাসপাতাল 'পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস' (পিআইএমএস)-এর মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে বুধবার ভোরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অন্তত ১৪ জন নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দুর্বল ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র 'পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস' (পিআইএমএস)-এর মাতৃত্ব ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে গোটা পাকিস্তানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু আগে (গ্রিনিচ মান সময় ০২০০ টা) হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ (MCH) ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো ওয়ার্ড, যেখানে নবজাতক ও শিশুরা চিকিৎসাধীন ছিল।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের বয়স ও পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি এবং বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে।

ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার সোহেল আশরাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান, জরুরি ফোন পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পুলিশকে নিয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ১৪টি মাসুম প্রাণ ঝরে যায়।

পাকিস্তানে বৃহৎ ভবন ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। দেশটির দুর্বল ভবন নিরাপত্তা আইন, অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে নিয়মিত এ ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাধারণ নাগরিক সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত এসব অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও বাস্তবায়নে প্রশাসনের উদাসীনতা স্পষ্ট।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই বন্দরনগরী করাচির এক শপিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৬৫ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এর আগে ২০২৩ সালেও করাচির অন্য একটি শপিং মল আগুনে পুড়ে ১১ জন মারা যান। এছাড়া ২০২১ সালে শহরের একটি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে ১৬ জন শ্রমিক নিহত হন। পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প ট্র্যাজেডিগুলোর একটি ঘটেছিল ২০১২ সালে করাচির বলদিয়া শহরের পোশাক কারখানায়, যেখানে ফায়ার এস্কেপ বা জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় ২৫০ জনেরও বেশি শ্রমিক জ্যান্ত পুড়ে মারা যান।

পাবলিক হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন নিরাপত্তা ত্রুটি ও শিশুর প্রাণহানি পাকিস্তানি চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অবহেলাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ