সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি বিমান হামলার পর তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধ গাজাসহ একাধিক ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত শক্তিশালী মুসলিম দেশ তুরস্কের সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়ায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, উসকানিমূলক নীতি ও কূটনীতির অভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের জন্য বিপজ্জনক 'অষ্টম ফ্রন্ট' খুলে যেতে পারে।
সিরিয়া কেন্দ্রিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সিরীয় সরকারের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে সম্প্রতি উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি প্রশাসনের দাবি, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরাইলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপকে তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চরম উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে।
হামলার জেরে আঙ্কারা ও জেরুজালেমের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ স্থগিত করেছে দামেস্ক। একই সাথে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তুর্কি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের স্বাভাবিক কোনো কারণ নেই। মূলত নেতানিয়াহু তার নিজস্ব রাজনৈতিক সংকটের কারণে তুরস্ককে কৃত্রিম প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
এই ইস্যুতে নেতানিয়াহু প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে খোদ ইসরাইলের ভেতরের গণমাধ্যমে। দেশটির শীর্ষ সংবাদপত্র হারেৎজ এক কঠোর সম্পাদকীয়তে লিখেছে, নেতানিয়াহুর একঘেয়েমি নীতির কারণে ইসরাইল আরেকটি ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে’ জড়িয়ে পড়ার মুখে পড়েছে। সামরিক হামলা কখনো স্থায়ী নিরাপত্তা আনতে পারে না উল্লেখ করে পত্রিকাটি সতর্ক করে যে, ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ফল ইসরাইলের জন্য চরম ভয়াবহ হতে পারে।
অনুরূপভাবে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট মন্তব্য করেছে, চলমান বহুমুখী সংঘাতের মধ্যে তুরস্ককে উসকানি দিয়ে ইসরাইল মূলত একটি ‘অষ্টম যুদ্ধফ্রন্ট’ তৈরির উন্মাদনা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থে দেওয়া বক্তব্য ও ফাঁকা হুমকি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি অন্য আরেক পত্রিকা মারিভ-এর প্রতিবেদনেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খোলার গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ পেয়েছে।
তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলি নেতৃত্বকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির লক্ষ্যে ইন্টারপোলে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা। অবরুদ্ধ গাজায় মুসলিমদের ওপর চলমান গণহত্যা ও আঞ্চলিক আগ্রাসনের মধ্যবর্তী সময়ে আঙ্কারার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এই উত্তেজনাকর নীতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি বিমান হামলার পর তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধ গাজাসহ একাধিক ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত শক্তিশালী মুসলিম দেশ তুরস্কের সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়ায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, উসকানিমূলক নীতি ও কূটনীতির অভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের জন্য বিপজ্জনক 'অষ্টম ফ্রন্ট' খুলে যেতে পারে।
সিরিয়া কেন্দ্রিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সিরীয় সরকারের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে সম্প্রতি উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি প্রশাসনের দাবি, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরাইলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপকে তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চরম উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে।
হামলার জেরে আঙ্কারা ও জেরুজালেমের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ স্থগিত করেছে দামেস্ক। একই সাথে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তুর্কি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের স্বাভাবিক কোনো কারণ নেই। মূলত নেতানিয়াহু তার নিজস্ব রাজনৈতিক সংকটের কারণে তুরস্ককে কৃত্রিম প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
এই ইস্যুতে নেতানিয়াহু প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে খোদ ইসরাইলের ভেতরের গণমাধ্যমে। দেশটির শীর্ষ সংবাদপত্র হারেৎজ এক কঠোর সম্পাদকীয়তে লিখেছে, নেতানিয়াহুর একঘেয়েমি নীতির কারণে ইসরাইল আরেকটি ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে’ জড়িয়ে পড়ার মুখে পড়েছে। সামরিক হামলা কখনো স্থায়ী নিরাপত্তা আনতে পারে না উল্লেখ করে পত্রিকাটি সতর্ক করে যে, ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ফল ইসরাইলের জন্য চরম ভয়াবহ হতে পারে।
অনুরূপভাবে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট মন্তব্য করেছে, চলমান বহুমুখী সংঘাতের মধ্যে তুরস্ককে উসকানি দিয়ে ইসরাইল মূলত একটি ‘অষ্টম যুদ্ধফ্রন্ট’ তৈরির উন্মাদনা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থে দেওয়া বক্তব্য ও ফাঁকা হুমকি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি অন্য আরেক পত্রিকা মারিভ-এর প্রতিবেদনেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খোলার গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ পেয়েছে।
তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলি নেতৃত্বকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির লক্ষ্যে ইন্টারপোলে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা। অবরুদ্ধ গাজায় মুসলিমদের ওপর চলমান গণহত্যা ও আঞ্চলিক আগ্রাসনের মধ্যবর্তী সময়ে আঙ্কারার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এই উত্তেজনাকর নীতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

আপনার মতামত লিখুন