বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনে জীবিত ৯২ শতাংশের নাম বাদ পড়ার দাবি; সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট

হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম


প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির পর খসড়া তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’-এর প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী।

সমীক্ষায় আরও দাবি করা হয়েছে, বাদ পড়াদের ৯২ শতাংশই জীবিত; তাদের বড় অংশকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত কিংবা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ধর্মভিত্তিক সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয় না বলে গবেষকরা জানিয়েছেন, মুসলিম ভোটারের হিসাব নামের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে সম্প্রতি পরিচালিত ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির পর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’ পরিচালিত একটি প্রাথমিক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাবির আহমেদ, সৌপ্তিক হালদার ও আশিন চক্রবর্তীর যৌথ পরিচালনায় করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ধর্মভিত্তিক আলাদা কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে নামের ভিত্তিতে মুসলিম ভোটারদের এই হিসাব করা হয়েছে।

সমীক্ষার দাবি অনুযায়ী, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৯২ শতাংশই বাস্তবে জীবিত। তাদের মধ্যে ৬৯.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন’ এবং ১৭.৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে কারণ দেখানো হয়েছে।

হায়দরাবাদের প্রতিটি পোলিং বুথ থেকে গড়ে ৫ শতাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াকুতপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭ নম্বর বুথে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩৫ জন নারী এবং তাদের ৫২৭ জনই জীবিত বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মালাকপেটে এই অনুপাত ১১২ শতাংশ এবং ইয়াকুতপুরায় ১১০ শতাংশ।

দুটি আসনই অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর দখলে রয়েছে।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, হায়দরাবাদের ১৫টি আসনে বাদ পড়া মোট ভোটারের ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী। সিকান্দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এই হার সর্বনিম্ন ১২.১ শতাংশ, আর বাহাদুরপুরায় সর্বোচ্চ ৮৫.৯ শতাংশ।

বাদ পড়া মুসলিম নামধারী ভোটারদের মধ্যে ৬৩.৮ শতাংশকে ‘স্থানান্তরিত’ এবং ১৯.৮ শতাংশকে ‘অনুপস্থিত/সন্ধানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। মোট ১৯ লাখ ৪১ হাজার বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে ৯ লাখ ২৮ হাজার নারী, যা মোট বাদ পড়া ভোটারের প্রায় ৪৭.৮ শতাংশ।

শুধু হায়দরাবাদ নয়, পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির বড় প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ২১.৭০ শতাংশ।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯ লাখ ২২ হাজার মৃত, ১১ লাখ ২৫ হাজার অনুপস্থিত, ৪৫ লাখ ১৮ হাজার স্থানান্তরিত এবং ৬ লাখ ৭০ হাজার একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ভোটারদের নাম যেন ভুলভাবে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো সম্প্রদায়ের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকলে, বিষয়টি স্বচ্ছ তথ্য ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা জরুরি।

তবে মুসলিম ভোটারদের ৪০.৭ শতাংশ হওয়ার তথ্যটি সরকারি ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান নয়—এটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নামভিত্তিক প্রাথমিক বিশ্লেষণ। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরকারি তথ্য, মাঠপর্যায়ের যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিষয় : ভারত ভোটার মুসলিম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির পর খসড়া তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’-এর প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী।

সমীক্ষায় আরও দাবি করা হয়েছে, বাদ পড়াদের ৯২ শতাংশই জীবিত; তাদের বড় অংশকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত কিংবা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ধর্মভিত্তিক সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয় না বলে গবেষকরা জানিয়েছেন, মুসলিম ভোটারের হিসাব নামের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে সম্প্রতি পরিচালিত ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির পর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’ পরিচালিত একটি প্রাথমিক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাবির আহমেদ, সৌপ্তিক হালদার ও আশিন চক্রবর্তীর যৌথ পরিচালনায় করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ধর্মভিত্তিক আলাদা কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে নামের ভিত্তিতে মুসলিম ভোটারদের এই হিসাব করা হয়েছে।

সমীক্ষার দাবি অনুযায়ী, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৯২ শতাংশই বাস্তবে জীবিত। তাদের মধ্যে ৬৯.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন’ এবং ১৭.৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে কারণ দেখানো হয়েছে।

হায়দরাবাদের প্রতিটি পোলিং বুথ থেকে গড়ে ৫ শতাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াকুতপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭ নম্বর বুথে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩৫ জন নারী এবং তাদের ৫২৭ জনই জীবিত বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মালাকপেটে এই অনুপাত ১১২ শতাংশ এবং ইয়াকুতপুরায় ১১০ শতাংশ।

দুটি আসনই অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর দখলে রয়েছে।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, হায়দরাবাদের ১৫টি আসনে বাদ পড়া মোট ভোটারের ৪০.৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী। সিকান্দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এই হার সর্বনিম্ন ১২.১ শতাংশ, আর বাহাদুরপুরায় সর্বোচ্চ ৮৫.৯ শতাংশ।

বাদ পড়া মুসলিম নামধারী ভোটারদের মধ্যে ৬৩.৮ শতাংশকে ‘স্থানান্তরিত’ এবং ১৯.৮ শতাংশকে ‘অনুপস্থিত/সন্ধানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। মোট ১৯ লাখ ৪১ হাজার বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে ৯ লাখ ২৮ হাজার নারী, যা মোট বাদ পড়া ভোটারের প্রায় ৪৭.৮ শতাংশ।

শুধু হায়দরাবাদ নয়, পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির বড় প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ২১.৭০ শতাংশ।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯ লাখ ২২ হাজার মৃত, ১১ লাখ ২৫ হাজার অনুপস্থিত, ৪৫ লাখ ১৮ হাজার স্থানান্তরিত এবং ৬ লাখ ৭০ হাজার একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ভোটারদের নাম যেন ভুলভাবে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো সম্প্রদায়ের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকলে, বিষয়টি স্বচ্ছ তথ্য ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা জরুরি।

তবে মুসলিম ভোটারদের ৪০.৭ শতাংশ হওয়ার তথ্যটি সরকারি ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান নয়—এটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নামভিত্তিক প্রাথমিক বিশ্লেষণ। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরকারি তথ্য, মাঠপর্যায়ের যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা প্রয়োজন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ