ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী জেলায় রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে প্রায় ১৫০ বছরের প্রাচীন ‘মদিনা মসজিদ’-এর অংশবিশেষ উচ্ছেদ করেছে স্থানীয় পৌর কর্পোরেশন। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) 'কেডি গেট' সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। একই অভিযানে পার্শ্ববর্তী 'জমিয়াতুল কুরাইশ কাসসাবান মসজিদ'-এরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ঐতিহাসিক এই উপাসনালয় ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা ঘটনাস্থলে প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়।
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনীতে প্রশাসনিক বুলডোজার শাসনের নতুন শিকার হয়েছে শতাব্দীর প্রাচীন একটি ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উজ্জয়িনী পৌর কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বিশাল পুলিশ বহর এবং জেসিবি বুলডোজার নিয়ে শহরের কেডি গেট এলাকায় অবস্থানরত 'মদিনা মসজিদ'-এ ভাঙচুর চালায়। রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের সীমানার ভেতরে পড়েছে দাবি করে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার একাংশ ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত চিত্রে দেখা যায়, অত্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মসজিদের সীমানা দেয়াল ও অবকাঠামোর অংশবিশেষ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এডিশনাল মিউনিসিপ্যাল কমিশনার (সিংহস্থ) সন্তোষ ঠাকুর দাবি করেন, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত স্থানে মসজিদের অংশটি পড়েছিল এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই নাকি এটি অপসারণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মসজিদ কমিটির অভিজ্ঞতা তার দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
একই উচ্ছেদ অভিযানে কেডি গেট সড়কে অবস্থিত 'জমিয়াতুল কুরাইশ কাসসাবান মসজিদ'-ও আংশিক ভাঙনের মুখে পড়ে। বুলডোজার দিয়ে ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হতেই স্থানীয় মুসলিম জনতা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে প্রতিবাদকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। পরবর্তীতে কোনো ধরনের প্রতিরোধ যেন বড় রূপ নিতে না পারে, সেজন্য বিশাল পুলিশ সদস্য ও পৌর কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন রাখা হয়।
১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ
মদিনা মসজিদ কমিটির সদস্য শাহিদ খান ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এই ধর্মীয় উপাসনালয়টি ১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থান। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা ইতোমধ্যেই নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও শতাব্দীর পুরোনো এই মসজিদের প্রতি প্রশাসনিক এই চরম আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
উজ্জয়িনীর শহর কাজী খালিক-উর-রহমান জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার প্রস্তুতি
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ২০২৮ সালে উজ্জয়িনীতে অনুষ্ঠিতব্য হিন্দু ধর্মীয় উৎসব 'সিংহস্থ মেলা'-র প্রস্তুতি হিসেবে কেডি গেট সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে একের পর এক ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপত্য ও মসজিদকে বুলডোজারের টার্গেট বানানোর কৌশলে চরম উদ্বিগ্ন ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়।
মতামত