বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নামাজের সময় মসজিদে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ; উপাসনালয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ফিলিস্তিনিরা।

পশ্চিম তীরে মসজিদে ইসরায়েলি হামলা, আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা


প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিম তীরে মসজিদে ইসরায়েলি হামলা, আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি মসজিদগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নাবলুসের কাছে মাদামা গ্রামে নামাজ চলাকালে একটি মসজিদের ভেতরে টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এতে ৬৬ বছর বয়সী নাঈম আহমেদ ফারাজ শ্বাসকষ্টে অচেতন হয়ে পড়েন। একই রাতে কাছের বাজুরিয়া শহরের ইমাদ আল-দীন জাঙ্কি মসজিদেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের মসজিদকেন্দ্রিক হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেক হামলা নামাজের সময় চালানো হচ্ছে, যাতে মুসল্লিদের মধ্যে সর্বোচ্চ আতঙ্ক তৈরি হয়।

নাবলুসের কাছে মাদামা গ্রামে সন্ধ্যার এশার নামাজের সময় নাঈম আহমেদ ফারাজসহ কয়েক ডজন মুসল্লি মসজিদে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদের ভেতরে টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

৬৬ বছর বয়সী ফারাজ আগে থেকেই জয়েন্ট ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার পর তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান এবং প্রায় অচেতন অবস্থায় চলে যান।

ফারাজের ছেলে মোহাম্মদ নাঈম জানান, তার বাবা টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় তাকে গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে তার জ্ঞান ফিরে আসে।

নাঈম বলেন, একটি মসজিদ এমন একটি নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে মসজিদে যাওয়াও স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদামা গ্রামে এ ধরনের অভিযান প্রায় প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা অনেক সময় সমন্বিতভাবে স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত করে।

নাঈম আরও বলেন, তাদের গ্রামটি চারদিক থেকে বসতি, বাইপাস সড়ক ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়েছে। তাদের বের হওয়ার মতো কোনো পথ বা নিরাপদ এলাকা নেই।

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের কারণে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলো ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী অবৈধ বসতিতে বসবাস করছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ অনেকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফিলিস্তিনবিরোধী বক্তব্য ও হামলা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে আগামী মাসের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলি রাজনীতিতে উগ্র ডানপন্থী বক্তব্য ও ফিলিস্তিনবিরোধী কর্মকাণ্ড আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি কনেসেটের উগ্র ডানপন্থী সদস্য জভি সুকোট মাদামা গ্রামে প্রবেশ করে একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিচিহ্ন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদামার মসজিদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাছের বাজুরিয়া শহরের ইমাদ আল-দীন জাঙ্কি মসজিদেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা পৃথক হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বাজুরিয়ার ওই মসজিদে হামলার পর সেখানে আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা পরে মসজিদটির ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। হামলার ঘটনায় উপাসনালয়গুলোও নিরাপদ নয়—এমন আতঙ্ক স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আরও গভীর হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদে হামলা শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; বরং এর মাধ্যমে পুরো ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হচ্ছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনটির বর্ণিত ঘটনাগুলো ফিলিস্তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

বিষয় : ইসরায়েল মসজিদ ফিলিস্তিনি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পশ্চিম তীরে মসজিদে ইসরায়েলি হামলা, আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি মসজিদগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নাবলুসের কাছে মাদামা গ্রামে নামাজ চলাকালে একটি মসজিদের ভেতরে টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এতে ৬৬ বছর বয়সী নাঈম আহমেদ ফারাজ শ্বাসকষ্টে অচেতন হয়ে পড়েন। একই রাতে কাছের বাজুরিয়া শহরের ইমাদ আল-দীন জাঙ্কি মসজিদেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের মসজিদকেন্দ্রিক হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেক হামলা নামাজের সময় চালানো হচ্ছে, যাতে মুসল্লিদের মধ্যে সর্বোচ্চ আতঙ্ক তৈরি হয়।

নাবলুসের কাছে মাদামা গ্রামে সন্ধ্যার এশার নামাজের সময় নাঈম আহমেদ ফারাজসহ কয়েক ডজন মুসল্লি মসজিদে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদের ভেতরে টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

৬৬ বছর বয়সী ফারাজ আগে থেকেই জয়েন্ট ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার পর তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান এবং প্রায় অচেতন অবস্থায় চলে যান।

ফারাজের ছেলে মোহাম্মদ নাঈম জানান, তার বাবা টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় তাকে গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে তার জ্ঞান ফিরে আসে।

নাঈম বলেন, একটি মসজিদ এমন একটি নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে মসজিদে যাওয়াও স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদামা গ্রামে এ ধরনের অভিযান প্রায় প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা অনেক সময় সমন্বিতভাবে স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত করে।

নাঈম আরও বলেন, তাদের গ্রামটি চারদিক থেকে বসতি, বাইপাস সড়ক ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়েছে। তাদের বের হওয়ার মতো কোনো পথ বা নিরাপদ এলাকা নেই।

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের কারণে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলো ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী অবৈধ বসতিতে বসবাস করছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ অনেকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফিলিস্তিনবিরোধী বক্তব্য ও হামলা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে আগামী মাসের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলি রাজনীতিতে উগ্র ডানপন্থী বক্তব্য ও ফিলিস্তিনবিরোধী কর্মকাণ্ড আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি কনেসেটের উগ্র ডানপন্থী সদস্য জভি সুকোট মাদামা গ্রামে প্রবেশ করে একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিচিহ্ন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদামার মসজিদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাছের বাজুরিয়া শহরের ইমাদ আল-দীন জাঙ্কি মসজিদেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা পৃথক হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বাজুরিয়ার ওই মসজিদে হামলার পর সেখানে আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা পরে মসজিদটির ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। হামলার ঘটনায় উপাসনালয়গুলোও নিরাপদ নয়—এমন আতঙ্ক স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আরও গভীর হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদে হামলা শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; বরং এর মাধ্যমে পুরো ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হচ্ছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনটির বর্ণিত ঘটনাগুলো ফিলিস্তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ