বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মার্কিন হামলার পর ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার। যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় নতুন কৌশলের ঘোষণা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপবে: মোহসেন রেজাই


প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপবে: মোহসেন রেজাই

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবে’ এবং দেশটির ওপর ধ্বংস ডেকে আনবে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার একদিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজাই বুধবার যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তাঁর দেশ যে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরান নতুন কৌশল বাস্তবায়ন করবে। তাঁর দাবি, এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের পরিণতি ডেকে আনবে।

মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার পর মার্কিন কোম্পানি ‘এক্স’-এর প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই এসব মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এসব ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য যে সংকট তৈরি করেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

রেজাই আরও বলেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র দেখতে পাবে যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের নতুন কৌশল কীভাবে বাস্তবায়িত হয়। তাঁর ভাষায়, এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবে এবং তাদের ওপর ধ্বংস ডেকে আনবে।

এদিকে বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলা শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে ইরানি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।

এর জবাবে তেহরান দাবি করেছে, তারা এই অঞ্চলের আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পেছনে দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সংঘাতের অংশ হিসেবে তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

যুদ্ধবিরতির আগে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে এবং ওই অঞ্চলে নিজেদের ভাষায় ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে’ পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নৌচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে প্রক্রিয়াটি পরবর্তীতে থমকে যায়।

এরপর গত জুলাইয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আবারও শুরু হয়। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা দেয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলাকে ইরানের সম্ভাব্য নতুন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে উভয় পক্ষের সামরিক দাবি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সংঘাতের প্রকৃত সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে তথ্য মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপবে: মোহসেন রেজাই

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবে’ এবং দেশটির ওপর ধ্বংস ডেকে আনবে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার একদিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজাই বুধবার যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তাঁর দেশ যে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরান নতুন কৌশল বাস্তবায়ন করবে। তাঁর দাবি, এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের পরিণতি ডেকে আনবে।

মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার পর মার্কিন কোম্পানি ‘এক্স’-এর প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই এসব মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এসব ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য যে সংকট তৈরি করেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

রেজাই আরও বলেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র দেখতে পাবে যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের নতুন কৌশল কীভাবে বাস্তবায়িত হয়। তাঁর ভাষায়, এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবে এবং তাদের ওপর ধ্বংস ডেকে আনবে।

এদিকে বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলা শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে ইরানি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।

এর জবাবে তেহরান দাবি করেছে, তারা এই অঞ্চলের আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পেছনে দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সংঘাতের অংশ হিসেবে তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

যুদ্ধবিরতির আগে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে এবং ওই অঞ্চলে নিজেদের ভাষায় ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে’ পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নৌচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে প্রক্রিয়াটি পরবর্তীতে থমকে যায়।

এরপর গত জুলাইয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আবারও শুরু হয়। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা দেয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলাকে ইরানের সম্ভাব্য নতুন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে উভয় পক্ষের সামরিক দাবি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সংঘাতের প্রকৃত সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে তথ্য মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ