গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের বিশেষ সামরিক শাখা 'নুখবা' বাহিনীর এক কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। গত বুধবারে পরিচালিত এই বিমান হামলায় মুহাম্মদ মাহমুদ মারশাদ আল-কাদি নামের ওই কমান্ডার নিহত হন বলে দাবি করে আইডিএফ। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আলোচনার আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেও অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরাইলি বিমান ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস সামরিক হামলা ও বিমান অভিযান থেমে নেই। দক্ষিণ গাজার প্রধান শহর খান ইউনিসে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর এক হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের অভিজাত 'নুখবা' বাহিনীর এক কোম্পানি কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেল আবিব।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ওই কমান্ডারের নাম মুহাম্মদ মাহমুদ মারশাদ আল-কাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করে, আল-কাদি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভূখণ্ডে পরিচালিত প্রতিরোধ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। একই সাথে রাফাহ এলাকায় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের জিম্মি চুক্তি ও বন্দি বিনিময়ের আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হওয়া ইসরাইলি বন্দিদের আটকে রাখার প্রক্রিয়াতেও তিনি আংশিকভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে তারা।
আইডিএফ তাদের পোস্টে আরো দাবি করেছে, খান ইউনিসে অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিলেন আল-কাদি, যিনি সম্প্রতি দক্ষিণ গাজায় হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।
তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই দাবির বিষয়ে হামাস বা আল-কাসসাম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগেও একাধিক ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের বেসামরিক ও সামাজিক পুনর্গঠন কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নুখবা বাহিনীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
গাজায় অব্যাহত ইসরাইলি আগ্রাসন, স্থানচ্যুত লাখ লাখ বেসামরিক ফিলিস্তিনির চরম মানবিক সংকট এবং যুদ্ধবিরতির বৈশ্বিক আহ্বানের মধ্যেও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ সীমান্তে দখলদার ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মতামত