শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির চরমপন্থী ইসলামফোবিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংহতি প্রকাশ করছেন সর্বস্তরের নারীরা; জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ ও জরিমানার হুমকির কড়া জবাব।

ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: প্রতিবাদে হিজাব পরে রাস্তায় ও সামাজিক মাধ্যমে ফরাসি নারীর


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: প্রতিবাদে হিজাব পরে রাস্তায় ও সামাজিক মাধ্যমে ফরাসি নারীর

ফ্রান্সে জনপরিসরে মুসলিম নারীদের হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক পরিধানে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এবং অর্থদণ্ডের হুমকির প্রতিবাদে অভূতপূর্ব সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন দেশটির সাধারণ নারীরা। উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল 'ন্যাশনাল র‍্যালি' (আরএন)-এর ইসলামফোবিক এজেন্ডার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে সংহতি জানাচ্ছেন সর্বস্তরের নাগরিকরা।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে মুসলিমবিদ্বেষ ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের এই অপচেষ্টা ইউরোপীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউরোপে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আবারও প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে। ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) জনপরিসরে হিজাব সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ক্ষমতায় এলে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি মুসলিম নারীরা হিজাব পরলে সিটবেল্ট না বাঁধার শাস্তির মতো অর্থদণ্ড (জরিমানা) অনাদায়ের শিকার হবেন বলে হুমকি দিয়েছেন দলটির সংসদ সদস্য জঁ-ফিলিপ তাগি।

এই চরমপন্থী ও মানবতাবিরোধী প্রস্তাবের প্রতিবাদে ফ্রান্সে অমুসলিম নারীদের মধ্যেও দেখা গেছে অভূতপূর্ব মানবিক জাগরণ। 'ন্যাশনাল র‍্যালি'-এর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে অনলাইনে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়েছে। সর্বস্তরের ফরাসি নারীরা মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব জড়িয়ে নিজেদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

অনলাইন অভিযানে অংশগ্রহণকারী নারীরা জোরালো বার্তা দিয়ে লিখেছেন: "আমাদের যেসব নাগরিক বোন হিজাব পরিধান করেন, তাঁদের সবার সমর্থনে আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ" এবং "যদি এই নিপীড়নমূলক আইন পাস করা হয়, তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে হিজাব পরা শুরু করব।"

উগ্র ডানপন্থী নেতা মারিন ল পেনের আস্থাভাজন এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরাসরি বলেন, আগামী নির্বাচনে তাঁর দল জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানকারী নারীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা হবে। তাঁর এই বক্তব্য ফ্রান্সের মানবাধিকারকর্মী, মুসলিম গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।

ফ্রান্সে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হিজাবসহ যেকোনো স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক পরিধান আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে উগ্র ডানপন্থীদের বর্তমান প্রস্তাবটি সাধারণ রাস্তাঘাট ও জনপরিসরে মুসলিম নারীদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল।

মানবাধিকার সংস্থা ও ফরাসি ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব মুসলিম ফেইথ (সিএফসিএম) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নির্বাচনী বৈ hisাবিক সুবিধা পেতে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ফ্রান্সে ইসলামফোবিয়া ও সংঘাত উসকে দিচ্ছে। এতে করে হিজাব পরিধানকারী নারীরা সরাসরি জনসমক্ষে হামলা ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপের রানঅফ অনুষ্ঠিত হবে ২ মে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবিরগুলো মুসলিমবিরোধী বিষবাষ্প ছড়িয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

বিষয় : ফ্রান্স হিজাব সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: প্রতিবাদে হিজাব পরে রাস্তায় ও সামাজিক মাধ্যমে ফরাসি নারীর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফ্রান্সে জনপরিসরে মুসলিম নারীদের হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক পরিধানে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এবং অর্থদণ্ডের হুমকির প্রতিবাদে অভূতপূর্ব সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন দেশটির সাধারণ নারীরা। উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল 'ন্যাশনাল র‍্যালি' (আরএন)-এর ইসলামফোবিক এজেন্ডার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে সংহতি জানাচ্ছেন সর্বস্তরের নাগরিকরা।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে মুসলিমবিদ্বেষ ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের এই অপচেষ্টা ইউরোপীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউরোপে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আবারও প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে। ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) জনপরিসরে হিজাব সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ক্ষমতায় এলে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি মুসলিম নারীরা হিজাব পরলে সিটবেল্ট না বাঁধার শাস্তির মতো অর্থদণ্ড (জরিমানা) অনাদায়ের শিকার হবেন বলে হুমকি দিয়েছেন দলটির সংসদ সদস্য জঁ-ফিলিপ তাগি।

এই চরমপন্থী ও মানবতাবিরোধী প্রস্তাবের প্রতিবাদে ফ্রান্সে অমুসলিম নারীদের মধ্যেও দেখা গেছে অভূতপূর্ব মানবিক জাগরণ। 'ন্যাশনাল র‍্যালি'-এর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে অনলাইনে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়েছে। সর্বস্তরের ফরাসি নারীরা মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব জড়িয়ে নিজেদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

অনলাইন অভিযানে অংশগ্রহণকারী নারীরা জোরালো বার্তা দিয়ে লিখেছেন: "আমাদের যেসব নাগরিক বোন হিজাব পরিধান করেন, তাঁদের সবার সমর্থনে আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ" এবং "যদি এই নিপীড়নমূলক আইন পাস করা হয়, তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে হিজাব পরা শুরু করব।"

উগ্র ডানপন্থী নেতা মারিন ল পেনের আস্থাভাজন এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরাসরি বলেন, আগামী নির্বাচনে তাঁর দল জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানকারী নারীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা হবে। তাঁর এই বক্তব্য ফ্রান্সের মানবাধিকারকর্মী, মুসলিম গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।

ফ্রান্সে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হিজাবসহ যেকোনো স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক পরিধান আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে উগ্র ডানপন্থীদের বর্তমান প্রস্তাবটি সাধারণ রাস্তাঘাট ও জনপরিসরে মুসলিম নারীদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল।

মানবাধিকার সংস্থা ও ফরাসি ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব মুসলিম ফেইথ (সিএফসিএম) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নির্বাচনী বৈ hisাবিক সুবিধা পেতে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ফ্রান্সে ইসলামফোবিয়া ও সংঘাত উসকে দিচ্ছে। এতে করে হিজাব পরিধানকারী নারীরা সরাসরি জনসমক্ষে হামলা ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপের রানঅফ অনুষ্ঠিত হবে ২ মে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবিরগুলো মুসলিমবিরোধী বিষবাষ্প ছড়িয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ