ফ্রান্সে জনপরিসরে মুসলিম নারীদের হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক পরিধানে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এবং অর্থদণ্ডের হুমকির প্রতিবাদে অভূতপূর্ব সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন দেশটির সাধারণ নারীরা।
বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে মুসলিমবিদ্বেষ ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের এই অপচেষ্টা ইউরোপীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউরোপে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আবারও প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে।
এই চরমপন্থী ও মানবতাবিরোধী প্রস্তাবের প্রতিবাদে ফ্রান্সে অমুসলিম নারীদের মধ্যেও দেখা গেছে অভূতপূর্ব মানবিক জাগরণ। 'ন্যাশনাল র্যালি'-এর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে অনলাইনে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়েছে।
অনলাইন অভিযানে অংশগ্রহণকারী নারীরা জোরালো বার্তা দিয়ে লিখেছেন: "আমাদের যেসব নাগরিক বোন হিজাব পরিধান করেন, তাঁদের সবার সমর্থনে আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ" এবং "যদি এই নিপীড়নমূলক আইন পাস করা হয়, তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে হিজাব পরা শুরু করব।"
উগ্র ডানপন্থী নেতা মারিন ল পেনের আস্থাভাজন এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরাসরি বলেন, আগামী নির্বাচনে তাঁর দল জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানকারী নারীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা হবে।
ফ্রান্সে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হিজাবসহ যেকোনো স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক পরিধান আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে উগ্র ডানপন্থীদের বর্তমান প্রস্তাবটি সাধারণ রাস্তাঘাট ও জনপরিসরে মুসলিম নারীদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল।
মানবাধিকার সংস্থা ও ফরাসি ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব মুসলিম ফেইথ (সিএফসিএম) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নির্বাচনী বৈ hisাবিক সুবিধা পেতে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ফ্রান্সে ইসলামফোবিয়া ও সংঘাত উসকে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপের রানঅফ অনুষ্ঠিত হবে ২ মে।
মতামত