রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

গত মার্চ থেকে হামলার তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি; স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসামরিক নাগরিক লক্ষ্য করে পাশবিক হামলা অব্যাহত

লেবাননে ইসরায়েলি গণহত্যা ও আগ্রাসনে নিহত প্রায় ৯ হাজার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলি গণহত্যা ও আগ্রাসনে নিহত প্রায় ৯ হাজার

লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত ও নৃশংস বিমান ও স্থল হামলায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৯২০ জনে পৌঁছেছে। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার ৫৯৫ জন বেসামরিক নাগরিক। সম্প্রতি লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই আশঙ্কাজনক ও ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২ মার্চের পর থেকে দখলদার বাহিনীর হামলার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কেবল এই সময়ের মধ্যেই ৪,৩৫৮ জন শাহাদাত বরণ করেছেন এবং ১২,৩৫৯ জন চরমভাবে আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার নীতি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে জেনেশুনেই স্বাস্থ্যসেবা খাত ও জরুরি উদ্ধার কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবায় ১৭৯ বার হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১৩৫ জন নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণ ও আগ্রাসনের মুখে লেবাননে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে চরম খাদ্য ও পানীয় সঙ্কটে দিনাতিপাত করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তথাকথিত ‘শান্তি’ কাঠামো বা সমঝোতার কথা বলা হলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল অবৈধ সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে জোরপূর্বক তথাকথিত ‘বাফার জোন’ গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ২৬ জুনের বিতর্কিত প্রস্তাবনায় প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, লেবানন থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা রাখা হয়নি। ফলে হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এই অন্যায় শর্ত প্রত্যাখ্যান করে জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো কূটনীতি সফল হতে হলে আগে দখলদারদের সম্পূর্ণভাবে লেবাননের মাটি ছাড়তে হবে।

সর্বশেষ শুক্র ও শনিবারের হামলাতেও দক্ষিণ লেবাননের কাফর রেমান, টায়ার, নাবাতিয়াহ এবং জাওতার আল-শারকিয়াহর মতো বহু বেসামরিক অঞ্চলে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কাফর রেমানে অন্তত তিনজন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুর অজুহাত দেখালেও বাস্তবে সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও হাসপাতাল ধ্বংস করে চলেছে সাম্রাজ্যবাদী এই শক্তি।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবানন গণহত্যা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লেবাননে ইসরায়েলি গণহত্যা ও আগ্রাসনে নিহত প্রায় ৯ হাজার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত ও নৃশংস বিমান ও স্থল হামলায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৯২০ জনে পৌঁছেছে। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার ৫৯৫ জন বেসামরিক নাগরিক। সম্প্রতি লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই আশঙ্কাজনক ও ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২ মার্চের পর থেকে দখলদার বাহিনীর হামলার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কেবল এই সময়ের মধ্যেই ৪,৩৫৮ জন শাহাদাত বরণ করেছেন এবং ১২,৩৫৯ জন চরমভাবে আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার নীতি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে জেনেশুনেই স্বাস্থ্যসেবা খাত ও জরুরি উদ্ধার কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবায় ১৭৯ বার হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১৩৫ জন নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণ ও আগ্রাসনের মুখে লেবাননে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে চরম খাদ্য ও পানীয় সঙ্কটে দিনাতিপাত করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তথাকথিত ‘শান্তি’ কাঠামো বা সমঝোতার কথা বলা হলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল অবৈধ সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে জোরপূর্বক তথাকথিত ‘বাফার জোন’ গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ২৬ জুনের বিতর্কিত প্রস্তাবনায় প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, লেবানন থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা রাখা হয়নি। ফলে হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এই অন্যায় শর্ত প্রত্যাখ্যান করে জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো কূটনীতি সফল হতে হলে আগে দখলদারদের সম্পূর্ণভাবে লেবাননের মাটি ছাড়তে হবে।

সর্বশেষ শুক্র ও শনিবারের হামলাতেও দক্ষিণ লেবাননের কাফর রেমান, টায়ার, নাবাতিয়াহ এবং জাওতার আল-শারকিয়াহর মতো বহু বেসামরিক অঞ্চলে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কাফর রেমানে অন্তত তিনজন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুর অজুহাত দেখালেও বাস্তবে সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও হাসপাতাল ধ্বংস করে চলেছে সাম্রাজ্যবাদী এই শক্তি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ