রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মুসলিম ব্রাদারহুডসহ একাধিক সংস্থা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি; সরকারি অবস্থানকে নিরপেক্ষতাহীন ও অস্থিতিশীল আখ্যা দিল প্রধান মুসলিম প্রতিষ্ঠান।

অস্ট্রিয়ায় মুসলিম সংগঠন ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধের প্রস্তাব মন্ত্রীর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রিয়ায় মুসলিম সংগঠন ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধের প্রস্তাব মন্ত্রীর

অস্ট্রিয়ার ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবার বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার গত শনিবার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ একাধিক মুসলিম সংগঠনকে সেদেশের সংবিধানে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের আওতায় দেশের অফিশিয়ালি স্বীকৃত বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন 'ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া'ও (আইজিজিও) চলে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত داده সতর্ক করেছেন তিনি। ধর্মীয় নেতাদের চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই উদ্যোগকে উগ্রবাদ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দাবি করেছে সরকার, যদিও মুসলিম নেতৃত্ব একে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষতার অভাব বলে সমালোচনা করেছে।

ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধের অজুহাতে অস্ট্রিয়া সরকার মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়াতে নতুন সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। 'অস্ট্রিয়ান প্রেস এজেন্সি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবার বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার এই নতুন অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আরও কয়েকটি ইসলামপন্থি সংস্থাকে দেশের সংবিধানে সরাসরি নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপন করেছেন।

একই সঙ্গে অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত প্রধান ও বৃহত্তম মুসলিম সংস্থা 'ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া' (আইজিজিও)-কে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। আইজিজিও-এর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাউয়ার সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারি পদক্ষেপের বাইরে এই প্রতিষ্ঠিত সংস্থাকেও রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা একে আওতামুক্ত রাখতে পারি। রাজনৈতিক ইসলামের সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো—এটি এমনকি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও সূক্ষ্মভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।’

মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের স্থানীয় নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বাউয়ার চরমপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা না রাখার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘চরমপন্থার সীমারেখা কোথায়—সে বিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। অতীতে উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমি বলতে গেলে দেখিনি।’ তিনি নিশ্চিত করেন যে, অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির (ওভিপি) কোয়ালিশন অংশীদারদের কাছে খুব শীঘ্রই এই সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক খসড়া জমা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বাউয়ারের এই বিতর্কিত বক্তব্য মূলত ভিয়েনা সরকারের উগ্র ইসলামবিরোধী কঠোর নীতিমালারই বহিঃপ্রকাশ। এর আগে গত ৩১ আগস্ট অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ (ORF)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ‘রাজনৈতিক বা উগ্র ইসলামের’ নামে চরমপন্থা ছড়ানোর রাশ টেনে ধরতে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়ন করতে চায়।

আইজিজিও-এর কড়া প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাখ্যান

তবে মন্ত্রী বাউয়ারের এই ধরনের অভিযোগ ও অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আইজিজিও-এর চেয়ারম্যান উমিত ভুরাল। তিনি এক বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেন যে, তাদের আইনি স্বীকৃত সংস্থাটি বহু বছর ধরে অস্ট্রিয়া সরকারের এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে সামাজিক স্থিতিশীলতায় কাজ করে আসছে।

ভুরাল সরকারি মনোভাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে বারবার বিতর্ক তুলে অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে বরং আমাদের এই পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা উচিত।’’ মন্ত্রীকে তাঁর পদের দায়িত্বশীলতা স্মরণে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘‘ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে ক্লডিয়া বাউয়ারের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে সংলাপে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন—বর্তমানে তার অভাব দেখা যাচ্ছে।’

আইজিজিও চেয়ারম্যান কড়া দাবি তুলে ধরেন যে, যেকোনো নতুন আইনি বা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া উচিত যে—ঠিক কোন কোন আচরণ বা কাঠামোকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মুসলিম ও নিবন্ধিত সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায় রাজনৈতিক শিকার না হয়।

বিষয় : অস্ট্রিয়ায় মুসলিম সংগঠন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অস্ট্রিয়ায় মুসলিম সংগঠন ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধের প্রস্তাব মন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অস্ট্রিয়ার ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবার বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার গত শনিবার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ একাধিক মুসলিম সংগঠনকে সেদেশের সংবিধানে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের আওতায় দেশের অফিশিয়ালি স্বীকৃত বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন 'ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া'ও (আইজিজিও) চলে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত داده সতর্ক করেছেন তিনি। ধর্মীয় নেতাদের চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই উদ্যোগকে উগ্রবাদ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দাবি করেছে সরকার, যদিও মুসলিম নেতৃত্ব একে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষতার অভাব বলে সমালোচনা করেছে।

ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধের অজুহাতে অস্ট্রিয়া সরকার মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়াতে নতুন সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। 'অস্ট্রিয়ান প্রেস এজেন্সি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবার বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার এই নতুন অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আরও কয়েকটি ইসলামপন্থি সংস্থাকে দেশের সংবিধানে সরাসরি নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপন করেছেন।

একই সঙ্গে অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত প্রধান ও বৃহত্তম মুসলিম সংস্থা 'ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া' (আইজিজিও)-কে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। আইজিজিও-এর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাউয়ার সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারি পদক্ষেপের বাইরে এই প্রতিষ্ঠিত সংস্থাকেও রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা একে আওতামুক্ত রাখতে পারি। রাজনৈতিক ইসলামের সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো—এটি এমনকি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও সূক্ষ্মভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।’

মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের স্থানীয় নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বাউয়ার চরমপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা না রাখার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘চরমপন্থার সীমারেখা কোথায়—সে বিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। অতীতে উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমি বলতে গেলে দেখিনি।’ তিনি নিশ্চিত করেন যে, অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির (ওভিপি) কোয়ালিশন অংশীদারদের কাছে খুব শীঘ্রই এই সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক খসড়া জমা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বাউয়ারের এই বিতর্কিত বক্তব্য মূলত ভিয়েনা সরকারের উগ্র ইসলামবিরোধী কঠোর নীতিমালারই বহিঃপ্রকাশ। এর আগে গত ৩১ আগস্ট অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ (ORF)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ‘রাজনৈতিক বা উগ্র ইসলামের’ নামে চরমপন্থা ছড়ানোর রাশ টেনে ধরতে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়ন করতে চায়।

আইজিজিও-এর কড়া প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাখ্যান

তবে মন্ত্রী বাউয়ারের এই ধরনের অভিযোগ ও অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আইজিজিও-এর চেয়ারম্যান উমিত ভুরাল। তিনি এক বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেন যে, তাদের আইনি স্বীকৃত সংস্থাটি বহু বছর ধরে অস্ট্রিয়া সরকারের এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে সামাজিক স্থিতিশীলতায় কাজ করে আসছে।

ভুরাল সরকারি মনোভাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে বারবার বিতর্ক তুলে অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে বরং আমাদের এই পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা উচিত।’’ মন্ত্রীকে তাঁর পদের দায়িত্বশীলতা স্মরণে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘‘ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে ক্লডিয়া বাউয়ারের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে সংলাপে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন—বর্তমানে তার অভাব দেখা যাচ্ছে।’

আইজিজিও চেয়ারম্যান কড়া দাবি তুলে ধরেন যে, যেকোনো নতুন আইনি বা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া উচিত যে—ঠিক কোন কোন আচরণ বা কাঠামোকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মুসলিম ও নিবন্ধিত সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায় রাজনৈতিক শিকার না হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ