বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ অ্যান্টওয়ার্পের শেলে শহরের 'তাওফিক মসজিদ'-এ উগ্র ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে জুমার নামাজের ঠিক আগে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা প্রাঙ্গণে এসে স্বস্তিকা চিহ্ন, আপত্তিকর বার্তা এবং ছড়িয়ে রাখা কুকুরের মল দেখতে পান। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউরোপে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া ইসলামফোবিয়ার এক চরম রূপ প্রত্যক্ষ করল বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চলীয় শেলে শহর। শুক্রবার জুমার নামাজের প্রাক্কালে শহরটির তাওফিক মসজিদে এক ঘৃণ্য ও আপত্তিকর হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় উগ্রপন্থীরা।
ঘটনার দিন সকালে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা কেন্দ্রে এসে দেখতে পান যে, মসজিদের প্রধান প্রবেশদ্বার ও জানালাগুলোতে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর প্রতীক 'স্বস্তিকা' চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেয়ালে বেশ কিছু ইসলামবিদ্বেষী ও ঘৃণামূলক বার্তা লিখে রাখা হয় এবং দরজার ঠিক সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয় কুকুরের মল।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাওফিক মসজিদ পরিচালনা পর্ষদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, 'আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্রে এমন বিদ্বেষপূর্ণ বার্তা, নাৎসি প্রতীক এবং নোংরা আবর্জনা দেখে আমরা অত্যন্ত হতবাক ও মর্মাহত হয়েছি। এটি স্পষ্টতই একটি পবিত্র স্থানকে অপবিত্র করার চক্রান্ত'।
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসা সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হয়। তবে তার আগেই মসজিদ কমিটির কর্মকর্তারা ঘটনার সব প্রমাণ ও আলোকচিত্র সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে জমা দেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে শেলে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় রুপেল পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংগৃহীত প্রমাণাদি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যেই জোর তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
'মুসলিমবিদ্বেষের চরম প্রকাশ'
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর বেলজিয়ামের মানবাধিকার সংস্থা 'মুসলিম রাইটস ওয়াচ' কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটি ঘটনাটিকে সাধারণ কোনো অপকর্ম নয়, বরং ইউরোপে ক্রমবর্ধমান “মুসলিমবিদ্বেষ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঘৃণার চরম প্রকাশ” বলে আখ্যায়িত করেছে।
মুসলিম রাইটস ওয়াচ বেলজিয়ামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন চাইব এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমরা এটিকে কেবল শিশুতোষ দুষ্টুমি বা বিচ্ছিন্ন কোনো ভাঙচুর হিসেবে দেখার সুযোগ মনে করি না। এটি বেলজিয়ামে মুসলিমদের নিরাপত্তাহীন করার এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে টার্গেট করার স্পষ্ট ও ঘৃণ্য মানসিকতার ফসল'।
তিনি আরও জানান, সংগঠনটির পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। ইউরোপে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বেলজিয়াম সরকারের প্রতি অবিলম্বে দেশের প্রতিটি মসজিদের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
মতামত