মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

লন্ডন-ইসরায়েল সম্পর্কের

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি থেকে ব্যবসা নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি থেকে ব্যবসা নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে সমস্ত ধরণের বাণিজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক 'ব্যাপক পরিবর্তনের' অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে পারেন। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিনষ্ট করার যে চক্রান্ত চলছে, তা রুখতেই লন্ডনের এই পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য সরকার অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপন্ন পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু সেবার বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এই অবৈধ এলাকাগুলোতে অর্থায়ন এবং বিজ্ঞাপন প্রচারও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে।

সংবাদ মাধ্যম 'দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট' উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল কর্তৃক বিতর্কিত 'ই-ওয়ান (E1)' বসতি প্রকল্প জোরদার করার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ সরকারের এই নীতির পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে। 'ই-ওয়ান' প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা একটি অখণ্ড ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দেবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বমূলক সম্প্রসারণকে একটি "অগ্রহণযোগ্য এবং ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সমাধান টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা জাতিসংঘভুক্ত ১৪০টিরও বেশি দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড তার পূর্বসূরিদের চেয়ে আরও কঠোর ভাষায় ইসরায়েলের সমালোচনা করবেন। সরকারের আসন্ন বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথাকথিত 'নিরাপত্তার অজুহাতে' গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহে অপ্রয়োজনীয় ও কঠোর বাধা সৃষ্টি করছে।

যদিও লন্ডন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা আইনি মামলায় যোগ দেওয়ার পথ খোলা রেখেছে, তবে যুক্তরাজ্যের এই নতুন নীতিমালায় 'গণহত্যা' শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের চরম নিন্দা জানিয়েছেন এবং অতি দ্রুত এই বিষয়ে আরও 'সর্বাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এখন 'নজিরবিহীন মাত্রায়' পৌঁছেছে। কেবল ২০২৬ সালেই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের ১,৪০০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ৫১৬টি অবৈধ বসতি ও চৌকিতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার চরমপন্থী ইসরায়েলি বসবাস করছে, যারা মূল অধিবাসী ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে প্রতিদিন নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

বিষয় : ইসরায়েল যুক্তরাজ্য

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি থেকে ব্যবসা নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে সমস্ত ধরণের বাণিজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক 'ব্যাপক পরিবর্তনের' অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে পারেন। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিনষ্ট করার যে চক্রান্ত চলছে, তা রুখতেই লন্ডনের এই পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য সরকার অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপন্ন পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু সেবার বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এই অবৈধ এলাকাগুলোতে অর্থায়ন এবং বিজ্ঞাপন প্রচারও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে।

সংবাদ মাধ্যম 'দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট' উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল কর্তৃক বিতর্কিত 'ই-ওয়ান (E1)' বসতি প্রকল্প জোরদার করার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ সরকারের এই নীতির পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে। 'ই-ওয়ান' প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা একটি অখণ্ড ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দেবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বমূলক সম্প্রসারণকে একটি "অগ্রহণযোগ্য এবং ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সমাধান টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা জাতিসংঘভুক্ত ১৪০টিরও বেশি দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড তার পূর্বসূরিদের চেয়ে আরও কঠোর ভাষায় ইসরায়েলের সমালোচনা করবেন। সরকারের আসন্ন বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথাকথিত 'নিরাপত্তার অজুহাতে' গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহে অপ্রয়োজনীয় ও কঠোর বাধা সৃষ্টি করছে।

যদিও লন্ডন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা আইনি মামলায় যোগ দেওয়ার পথ খোলা রেখেছে, তবে যুক্তরাজ্যের এই নতুন নীতিমালায় 'গণহত্যা' শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের চরম নিন্দা জানিয়েছেন এবং অতি দ্রুত এই বিষয়ে আরও 'সর্বাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এখন 'নজিরবিহীন মাত্রায়' পৌঁছেছে। কেবল ২০২৬ সালেই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের ১,৪০০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ৫১৬টি অবৈধ বসতি ও চৌকিতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার চরমপন্থী ইসরায়েলি বসবাস করছে, যারা মূল অধিবাসী ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে প্রতিদিন নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ