ইতালিতে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল ৩২ বছর বয়সী ইরানি শিক্ষার্থী নিকির। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তার সেই স্বপ্ন এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জের ধরে গত আগস্টে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শিক্ষা সংক্রান্ত সাধারণ লাইসেন্স স্থগিত করে, যার ফলে মার্কিনভিত্তিক সংস্থা ‘এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিস’ (ETS) ইরানে টোফেল পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। শুধু টোফেলই নয়, পিটিই (PTE) এবং ডুওলিঙ্গোর (Duolingo) মতো অন্যান্য বিকল্প অনলাইন পরীক্ষাও দেশটিতে স্থগিত করা হয়েছে।
ইটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা চাইলে বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেন।
আরমেনিয়া, তুরস্ক বা ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার খরচ জোগাতে অনেক শিক্ষার্থী জমানো টাকা খরচ করছেন কিংবা দাঁতের চিকিৎসার মতো জরুরি স্বাস্থ্যসেবার বাজেট কাটছাঁট করছেন। তবে ফ্লাইট ও অন্যান্য খরচের কারণে ইস্তাম্বুলের মতো জায়গায় যাওয়াকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেবল 'ধনীদের বিলাসিতা' বলেই মনে করছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ত্রী হুসেইন সিমাই সারাফ এই পদক্ষেপকে "প্রস্তর যুগের আচরণ" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে সাধারণ নাগরিকদের শিক্ষার অধিকারের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। ওয়াশিংটনের এই নীতি যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে নেমে এসেছে, সে বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জার্মানির একটি আর্টস প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েও যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচের অভাবে যেতে পারছেন না তেহরানের বাসিন্দা লাইলা।
মতামত