মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে টোফেলসহ সব ধরনের ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে চরম সংকটে পড়েছেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা সাধারণ ইরানি শিক্ষার্থীরা।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ ও স্বপ্নের পথ অবরুদ্ধ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ ও স্বপ্নের পথ অবরুদ্ধ

ইতালিতে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল ৩২ বছর বয়সী ইরানি শিক্ষার্থী নিকির। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তার সেই স্বপ্ন এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। চলতি মাসের শেষের দিকে তার 'টোফেল' (TOEFL) পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। পরীক্ষা বাতিলের খবর শুনে টানা কয়েকদিন ঘর থেকে বের হননি লাহিজানের এক পেস্ট্রি শপে কর্মরত এই তরুণী। ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় নিকির মতো হাজারও ইরানি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জের ধরে গত আগস্টে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শিক্ষা সংক্রান্ত সাধারণ লাইসেন্স স্থগিত করে, যার ফলে মার্কিনভিত্তিক সংস্থা ‘এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিস’ (ETS) ইরানে টোফেল পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। শুধু টোফেলই নয়, পিটিই (PTE) এবং ডুওলিঙ্গোর (Duolingo) মতো অন্যান্য বিকল্প অনলাইন পরীক্ষাও দেশটিতে স্থগিত করা হয়েছে।

ইটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা চাইলে বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু বছরের পর বছর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং যুদ্ধের কারণে মুদ্রার নজিরবিহীন অবমূল্যায়নের শিকার সাধারণ ইরানিদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান নেমে এসেছে প্রায় ২২ লাখে, আর মূল্যস্ফীতি ৮৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

আরমেনিয়া, তুরস্ক বা ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার খরচ জোগাতে অনেক শিক্ষার্থী জমানো টাকা খরচ করছেন কিংবা দাঁতের চিকিৎসার মতো জরুরি স্বাস্থ্যসেবার বাজেট কাটছাঁট করছেন। তবে ফ্লাইট ও অন্যান্য খরচের কারণে ইস্তাম্বুলের মতো জায়গায় যাওয়াকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেবল 'ধনীদের বিলাসিতা' বলেই মনে করছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ত্রী হুসেইন সিমাই সারাফ এই পদক্ষেপকে "প্রস্তর যুগের আচরণ" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে সাধারণ নাগরিকদের শিক্ষার অধিকারের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। ওয়াশিংটনের এই নীতি যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে নেমে এসেছে, সে বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জার্মানির একটি আর্টস প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েও যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচের অভাবে যেতে পারছেন না তেহরানের বাসিন্দা লাইলা। চরম হতাশা ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিদেশে পরীক্ষা দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই, তাই বাধ্য হয়ে তিনি দেশের ভেতরেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ ও স্বপ্নের পথ অবরুদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইতালিতে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল ৩২ বছর বয়সী ইরানি শিক্ষার্থী নিকির। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তার সেই স্বপ্ন এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। চলতি মাসের শেষের দিকে তার 'টোফেল' (TOEFL) পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। পরীক্ষা বাতিলের খবর শুনে টানা কয়েকদিন ঘর থেকে বের হননি লাহিজানের এক পেস্ট্রি শপে কর্মরত এই তরুণী। ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় নিকির মতো হাজারও ইরানি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জের ধরে গত আগস্টে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শিক্ষা সংক্রান্ত সাধারণ লাইসেন্স স্থগিত করে, যার ফলে মার্কিনভিত্তিক সংস্থা ‘এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিস’ (ETS) ইরানে টোফেল পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। শুধু টোফেলই নয়, পিটিই (PTE) এবং ডুওলিঙ্গোর (Duolingo) মতো অন্যান্য বিকল্প অনলাইন পরীক্ষাও দেশটিতে স্থগিত করা হয়েছে।

ইটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা চাইলে বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু বছরের পর বছর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং যুদ্ধের কারণে মুদ্রার নজিরবিহীন অবমূল্যায়নের শিকার সাধারণ ইরানিদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান নেমে এসেছে প্রায় ২২ লাখে, আর মূল্যস্ফীতি ৮৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

আরমেনিয়া, তুরস্ক বা ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার খরচ জোগাতে অনেক শিক্ষার্থী জমানো টাকা খরচ করছেন কিংবা দাঁতের চিকিৎসার মতো জরুরি স্বাস্থ্যসেবার বাজেট কাটছাঁট করছেন। তবে ফ্লাইট ও অন্যান্য খরচের কারণে ইস্তাম্বুলের মতো জায়গায় যাওয়াকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেবল 'ধনীদের বিলাসিতা' বলেই মনে করছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ত্রী হুসেইন সিমাই সারাফ এই পদক্ষেপকে "প্রস্তর যুগের আচরণ" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে সাধারণ নাগরিকদের শিক্ষার অধিকারের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। ওয়াশিংটনের এই নীতি যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে নেমে এসেছে, সে বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জার্মানির একটি আর্টস প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েও যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচের অভাবে যেতে পারছেন না তেহরানের বাসিন্দা লাইলা। চরম হতাশা ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিদেশে পরীক্ষা দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই, তাই বাধ্য হয়ে তিনি দেশের ভেতরেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ