নেপালে বসবাসকারী প্রায় ২০ লাখ মুসলিম জনগোষ্ঠীর উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি দাওরায়ে হাদিস (উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা) মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে জমিয়তে উলামায়ে নেপালের কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি ও জাতীয় সভার সদস্য মাওলানা মোহাম্মাদ খালেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেপালে ‘দারুল উলুম নেপাল’ নামের এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা ও সহায়তা নিশ্চিতকরণের বিষযে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয়কন্যা নেপালে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে দেশটিতে কেবল প্রাথমিক মকতব, হিফজ এবং কিতাব বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষাকার্যক্রম চালু রয়েছে। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ধাপ অতিক্রম করার পর যারা আলেম হতে চান, সেসব শিক্ষার্থীকে উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমাতে হয়। নেপালের নিজ ভূমিতে দাওরায়ে হাদিস বা কামিল সমমানের কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় বহু মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে আলেম হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না।
এই সংকট নিরসনে জমিয়তে উলামায়ে নেপাল একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম নেপাল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কাঠমান্ডুতে আয়োজিত বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে নেপালের সভাপতি ও নেপালি জাতীয় সভার সদস্য মাওলানা মোহাম্মাদ খালেদ সিদ্দিকী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকের কাছে এই দাওরায়ে হাদিস মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বিস্তারিত রূপরেখা ও আবেদন তুলে ধরেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সভাপতি ও গরিব এতীম ট্রাস্টের দায়িত্বশীল মাওলানা শেখ ছালেহ আহমদ হামিদী এবং মাদরাসাতুর রহমানের ভাইস প্রিন্সিপাল শায়খুল হাদীশ আক্তারুজ্জামান। বৈঠকে নেপাল ও বাংলাদেশের আলেমসমাজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশ, দাওয়াত ও দ্বীনি শিক্ষা সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে সর্বসম্মত অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠক শেষে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "নেপালে ইসলামী শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই এবং উচ্চতর পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের ভারতে যেতে হয়। নেপালের ২০ লাখ মুসলমানের ধর্মীয় অস্তিত্ব রক্ষা ও শিক্ষার স্বার্থে 'দারুল উলুম নেপাল' প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সমাজসেবী, আন্তর্জাতিক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থাগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা আশা প্রকাশ করেছেন, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর যৌথ সহযোগিতায় নেপালের মাটিতে প্রথম দাওরায়ে হাদিস মাদরাসা প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
মতামত