ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ধ্বংসের পর ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় হঠাৎ একটি গভীর প্রাচীন কূপ আবিষ্কৃত হয়েছে।
সাহারানপুরে মসজিদ ধ্বংসের পর নতুন চক্রান্ত
ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর চলমান আগ্রাসনের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সাহারানপুর কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে অবস্থিত এক শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এরপর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সময় মাটি থেকে প্রায় ২০ ফুট গভীর এবং ৩ ফুট প্রশস্ত একটি পুরনো রূপালী কূপের সন্ধান মেলে।
প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত
সহকারী প্রত্নতাত্ত্বিক কর্মকর্তা মনোজ কুমার যাদব স্থান পরিদর্শন ও কূপের ভেতরে নেমে পর্যবেক্ষণ শেষে জানান, নির্মাণশৈলী ও ব্যবহৃত উপকরণ—বিশেষ করে লাখৌরি ইট এবং চুন-সুরকির মিশ্রণ—দেখে মনে হচ্ছে এটি উত্তর ও মধ্য গঙ্গা অববাহিকার উত্তর-মধ্যযুগের স্থাপত্য নিদর্শন।
ঐতিহাসিক সত্যতা ও মুসলিম সমাজের অবস্থান
ঐতিহাসিকভাবে উপমহাদেশে পুরনো মসজিদ প্রাঙ্গণে অজুখানা বা পানি ব্যবহারের জন্য কূপ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ একটি বিষয়। অধিকন্তু, স্থানীয় ওয়াকফ রেকর্ড ও রাজস্ব নথি অনুসারে, এই জমিটি শতবর্ষ আগে এক মুসলিম পরিবারই দান করেছিল, যেখানে মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী প্রাঙ্গণ নির্মিত হয়। শত বছর ধরে মুসলিমরা সেখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদত করে আসছিলেন। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর আবেদনের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি করে আদালত থেকে উচ্ছেদ আদেশ বের করে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যা চরম অন্যায় ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির নতুন ফাঁদ
কূপ আবিষ্কারের খবর চাউর হতেই বিজেপি ও তার সহযোগী হিন্দুত্ববাদী নেতারা নতুন করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা শুরু করেছেন। যোগী সরকারের মন্ত্রী নরেন্দ্র কাশ্যপ ও ওপি রাজভর সরাসরি দাবি করেছেন যে, সেখানে আগে মন্দির বা অন্য কোনো উপাসনালয় ছিল এবং তার ওপর জোরপূর্বক মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।
মতামত