শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিবাহানুষ্ঠানে গান-বাজনা ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সমালোচনা করে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এক প্রবীণ কাজাখ নাগরিককে।

বিয়েবাড়িতে ইসলামি নসিহত: ‘উগ্রবাদের’ অভিযোগে ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধকে গ্রেফতার


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়েবাড়িতে ইসলামি নসিহত: ‘উগ্রবাদের’ অভিযোগে ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধকে গ্রেফতার

কাজাখস্তানের তুর্কিস্তান প্রদেশের ঝেতিসায় জেলায় একটি বিবাহানুষ্ঠানে ইসলামি শরিয়াহ মেনে চলার নসিহত দেওয়ায় ৬৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধান লঙ্ঘনের অজুহাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কাজাখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্ট প্রশাসন।

কাজাখস্তানের দক্ষিণ অঞ্চলের তুর্কিস্তান প্রদেশের ঝেতিসায় জেলায় একটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক বিবাহানুষ্ঠানে (তোয়) বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ৬৬ বছর বয়সী এক কাজাখ নাগরিক উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রচলিত ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির পরিবর্তে ইসলামি রীতিনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ওই বৃদ্ধ বলেন, “আমরা মুসলমান এবং আমাদের ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে হালাল ও হারাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের বিবাহানুষ্ঠানগুলো থেকে মদের মতো অভিশাপ দূর হয়েছে। কিন্তু এখনো দুটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে। প্রথমটি হলো গান-বাজনা, যা শরিয়তের নীতিমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং এটি বর্জন করা উচিত। দ্বিতীয়টি হলো পুরুষ ও নারীদের একসঙ্গে বসে একই টেবিলে খাবার খাওয়া ও সামাজিক মেলামেশা করা।”

অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভিডিওটি নজরদারিতে আনে কাজাখস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MVD)। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় সংস্কারের নামে লিঙ্গ বৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দিয়েছেন। কাজাখস্তানের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অবাধ মতপ্রকাশের নামে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা কোনো বিশেষ ধর্মীয় অনুশাসন বাধ্য করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

বিষয়টিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের ফার্স্ট ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এরলান কারিন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি কাজাখ সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি সংবিধান ও আইন, কোনো ধর্মীয় বিধিনিষেধ নয়।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মধ্য এশিয়ার পোস্ট-সোভিয়েত দেশগুলোতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও সরকারগুলো ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রায়শই "উগ্রবাদ" বা "ধর্মীয় বিদ্বেষ" হিসেবে চিহ্নিত করে দমনপীড়ন চালায়। এ ঘটনাটি কাজাখস্তানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিমদের অধিকার হরণের এক নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল।

বিষয় : কাজাখস্তান নসিহত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিয়েবাড়িতে ইসলামি নসিহত: ‘উগ্রবাদের’ অভিযোগে ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধকে গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কাজাখস্তানের তুর্কিস্তান প্রদেশের ঝেতিসায় জেলায় একটি বিবাহানুষ্ঠানে ইসলামি শরিয়াহ মেনে চলার নসিহত দেওয়ায় ৬৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধান লঙ্ঘনের অজুহাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কাজাখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্ট প্রশাসন।

কাজাখস্তানের দক্ষিণ অঞ্চলের তুর্কিস্তান প্রদেশের ঝেতিসায় জেলায় একটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক বিবাহানুষ্ঠানে (তোয়) বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ৬৬ বছর বয়সী এক কাজাখ নাগরিক উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রচলিত ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির পরিবর্তে ইসলামি রীতিনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ওই বৃদ্ধ বলেন, “আমরা মুসলমান এবং আমাদের ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে হালাল ও হারাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের বিবাহানুষ্ঠানগুলো থেকে মদের মতো অভিশাপ দূর হয়েছে। কিন্তু এখনো দুটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে। প্রথমটি হলো গান-বাজনা, যা শরিয়তের নীতিমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং এটি বর্জন করা উচিত। দ্বিতীয়টি হলো পুরুষ ও নারীদের একসঙ্গে বসে একই টেবিলে খাবার খাওয়া ও সামাজিক মেলামেশা করা।”

অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভিডিওটি নজরদারিতে আনে কাজাখস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MVD)। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় সংস্কারের নামে লিঙ্গ বৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দিয়েছেন। কাজাখস্তানের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অবাধ মতপ্রকাশের নামে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা কোনো বিশেষ ধর্মীয় অনুশাসন বাধ্য করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

বিষয়টিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের ফার্স্ট ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এরলান কারিন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি কাজাখ সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি সংবিধান ও আইন, কোনো ধর্মীয় বিধিনিষেধ নয়।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মধ্য এশিয়ার পোস্ট-সোভিয়েত দেশগুলোতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও সরকারগুলো ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রায়শই "উগ্রবাদ" বা "ধর্মীয় বিদ্বেষ" হিসেবে চিহ্নিত করে দমনপীড়ন চালায়। এ ঘটনাটি কাজাখস্তানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিমদের অধিকার হরণের এক নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ