ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী অতি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার পর এই অগ্রগতি অর্জিত হলো। এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে একটি 'ঐশী বিজয়' হিসেবে অভিহিত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ইরানের রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা সম্পূর্ণ নিজেদের দখলে নিয়েছে হুথি যোদ্ধারা। এই দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগর উপকূল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম মূল ধমনী বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর হুথিদের প্রভাব আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হলো।
২০১৪ সালে পশ্চিমা বিশ্ব ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী সানা দখল করে রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান সুদৃঢ় করে প্রধানত জাইদি শিয়াভিত্তিক আন্দোলন হুথি। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সংঘাত ও লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় মোখা বন্দরের পতন ইয়েমেনের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
মোখা বন্দর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হুথিরা এখন বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তার করেছে, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজের একটা বড় অংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলে হুথিদের আধিপত্য কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এদিকে হুথিদের এই সাফল্যকে ‘ঐশী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে উদযাপনে মেতেছে ইরান। দেশটির রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমগুলো হুথিদের এ অগ্রযাত্রাকে মূলত মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামুদ্রিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুথিদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ইয়েমেন আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এই বিজয় ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অসামান্য উদাহরণ।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের হুথিদের এই ‘প্রচণ্ড বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তির উপস্থিতি এবং সার্বিক প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আজ সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে চরম অচলাবস্থায় পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের উপকূলে সংঘাতের এই নতুন চিত্র বিশ্ব মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, যেখানে পশ্চিমা আগ্রাসন ও আঞ্চলিক শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রতিরোধ আরও জোরদার হতে পারে।
মতামত