ভারতের সাথে অযথা ‘ভারত জিকির’ না করে নিজ দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোযোগী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি এ বার্তা দেন। ঢাকা দিল্লির সঙ্গে একটি সমতার ভিত্তিতে নতুন ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ এবং তাদের সঙ্গে একটি কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে ভারতকেন্দ্রিক চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। প্রতিবেশীর মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িত এবং যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, সেখানেই বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক যোগাযোগের পরিধি আরও বড় করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাইডলাইন বৈঠকসহ যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ যুক্ত হবে।
ভারতে বাংলাদেশ সীমান্তে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশকে আর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনে দেখা যাবে না। সব সমস্যার সুরাহা আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে। পাশাপাশি আগের সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে জোরালো আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মতামত