বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও রাজ নৈতিক নেতৃবৃন্দ। রোববা র রাজধানীর তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘সেভ দ্য পিপল’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলিম উম্মাহ নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। তাই কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ বা বিবৃতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফিলিস্তিন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র ও ওআইসিকে (OIC) কূটনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
‘দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন ও উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য পিপলসের কনভেনার মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এবং সঞ্চালনা করেন মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান মুসলিম নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দেশটিতে প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ঐতিহাসিক মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভারতের মুসলিমদের ওপর চলমান এসব নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে বক্তারা দায়ীদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিন পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, গাজা ও ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে নিরীহ, নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর দখলদার শক্তির বর্বর হামলা ও ধারাবাহিক গণহত্যা বিশ্ব মানবতার ওপর বড় আঘাত। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেখানে মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করতে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু কথার কথা না বলে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, "মুসলিম বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে ‘মক্কা চুক্তি’র মূল চেতনা বাস্তবায়ন জরুরি। এ চুক্তিকে কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেখানেই মুসলমানরা নির্যাতিত হবে, সেখানেই সাহায্য ও সুরক্ষার হাত বাড়িয়ে দিতে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক মুসলিম ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।"
গোলটেবিল বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মুসলিমদের মৌলিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠায় বিশ্বজুড়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে এই বর্বরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, দিলু রোড মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, আব্দুল আহাদ নুর, অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দীন, মাওলানা জয়নুল আবেদীন এবং মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান।
মতামত