ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক বর্বরতা ও হত্যাকাণ্ডে সমর্থন জোগায়, এমন কোনো সামরিক কার্গো বা সরঞ্জাম ট্রানজিট হিসেবে মালয়েশিয়ার বন্দর ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারবে না বলে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইসরায়েলগামী যেকোনো সন্দেহভাজন চালানে কঠোর তল্লাশি চালানো হবে এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইসরায়েলি সামরিক চালানের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার জিরো টলারেন্স নীতি
আন্তর্জাতিক স্তরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও সংহতির পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠস্বর মালয়েশিয়া ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক যেকোনো বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর করেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা ও নিষ্পাপ মানুষের প্রাণহানির পেছনে অবদান রাখে—এমন কোনো কার্গো বা চালান বহনে মালয়েশিয়া কোনোভাবেই ট্রানজিট পথ বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেবে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মালয়েশিয়ার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। আমরা আমাদের দেশকে এমন কোনো চালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে দেব না, যা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়ায় কিংবা ফিলিস্তিন ও অন্যান্য নিরীহ মানুষের ওপর চালানো তাদের নৃশংসতায় সহায়তা করে। যেকোনো সন্দেহজনক কার্গো চালান মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী পরীক্ষা ও তদন্তের আওতায় আনা হবে। কোনো ধরনের লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে কঠোর ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তঞ্জুং পেলেপাস বন্দরে ইসরায়েলগামী কনটেইনার আটক
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশটির বন্দরগুলোতে ইসরায়েলগামী জাহাজের ওপর অভূতপূর্ব নজরদারির তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রধান তঞ্জুং পেলেপাস বন্দরে (Port of Tanjung Pelepas) তেল আবিবের দক্ষিণ পাশের আশদোদ অভিমুখে যাত্রা করা একাধিক কনটেইনার আটক রেখে তদন্ত চালাচ্ছে দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা ও শুল্ক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ফিলিপাইন থেকে আসা এবং ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'এলবিট সিস্টেমস'-এর কাছে পাঠাতে যাওয়া অস্ত্রের একটি চালান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করে মালয়েশিয়ার বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি। একই মাসে চীন থেকে আসা ইসরায়েলগামী আরও তিনটি সন্দেহভাজন কনটেইনার আটক করা হয়।
মুসলিম বিশ্বের অগ্রগামী নেতৃত্বে কুয়ালালামপুর
ইসরায়েলের সাথে কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই মালয়েশিয়ার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে মালয়েশিয়া সরকার দেশটির ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করে। একই বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিখ্যাত শিপিং কোম্পানি 'জিম' (ZIM)-এর জাহাজ মালয়েশিয়ার যেকোনো বন্দরে নোঙর করা বা পণ্য খালাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মালয়েশিয়ার এই সোচ্চার ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এই পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করল, যা দেখিয়ে দিল কীভাবে কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যবহারিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দখলদার বাহিনীর রসদ সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব।
মতামত