গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে গভীর রাতে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জন শিশু এবং বহু নারী রয়েছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের সূত্রমতে, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৬টি পরিবার আটকে রয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স বুধবার সকালে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভবনগুলো গাজায় এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশুদের বাঁচানোর করুণ আর্তনাদ শোনা গেলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে খালি হাতেই মাটি ও কংক্রিট সরাতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা।
আল জাজিরা কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের টেনে বের করছেন। অগণিত মানুষের আহাজারির মধ্যে এক ছোট শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করতে দেখা যায়। বেশ কয়েকজন শিশুকে সংজ্ঞাহীন ও শ্বাসকষ্টজনিত অবস্থায় উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আগেই ফাটল ধরেছিল এবং অবকাঠামোগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। গাজা জুড়ে এমন হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অর্ধ-সংকটাপন্ন ভবন রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইসরায়েলি কঠোর অবরোধের কারণে গাজায় নতুন নির্মাণসামগ্রী ও জরুরি উদ্ধার কাজের ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিরাপদে উদ্ধার অভিযান চালানো সিভিল ডিফেন্সের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির তীব্র অভাবে উদ্ধারকর্মীরা হাতে খনন করে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা জরুরি মুহূর্তে উদ্ধারকাজকে মারাত্মকভাবে ধীর ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। দখলদারদের এই মানবিক অবরোধ গাজার সাধারণ নাগরিকদের একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মতামত