বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করতে শাপলা চত্বরের ঈমানী চেতনা ধারণের তাগিদ।

৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: আল্লামা মামুনুল হক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: আল্লামা মামুনুল হক

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঈমানী মহাজাগরণ ও রক্তঝরা শাহাদাতই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবর্তন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আল্লামা মামুনুল হক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম পূর্ব চত্বরে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’-এর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে শাপলার এই নবীপ্রেমের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে।

৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের রক্তঝরা চেতনার কাছে গভীরভাবে ঋণী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক, নীতিভিত্তিক ও বিশ্বাসকেন্দ্রিক ধারায় পরিচালিত করতে হলে এই জাগরণের মূল প্রেরণা তথা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসার ভিত্তিকে শক্তভাবে ধারণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় শাপলা স্মৃতি সংসদের বিশেষ উদ্যোগ ‘শাপলা কর্নার’-এর শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তি ও সামাজিক রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'একটি জাতির রাজনীতি, সামাজিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের পেছনে তার সংস্কৃতির ভূমিকা সবচেয়ে গভীর। সামাজিক সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ থেকেই মূল রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়। কোনো জাতি তার সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে যেভাবে ধারণ করে, তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলাও সেভাবেই নির্ধারিত হয়।'

তিনি অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন একটি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বুনিয়াদ তৈরি করেছিল। ঠিক একইভাবে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক গণজাগরণ ছিল দেশের আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ ও মুমিন হৃদয়ের এক অভূতপূর্ব ঈমানী বিপ্লব। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ইজ্জত রক্ষা ও ভালোবাসার পবিত্র টানে সর্বোচ্চ কোরবানি দেওয়ার এই চেতনা ইসলামবিদ্বেষ ও নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রধান সামাজিক প্রতিরোধে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানও সেই শাপলার শহীদদের রক্তের ওপর নির্মিত বুনিয়াদেরই ধারাবাহিক রূপ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাপলা গণহত্যা কেন্দ্র করে বাংলাদেশে দুটি সুস্পষ্ট ধারা তৈরি হয়েছে—একদিকে রাসুলপ্রেম, ঈমান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ধারা; অপরদিকে নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা। এই ঈমানী ধারাকে কোনো পরিস্থিতিতেই অন্য কোনো আদর্শের কাছে নতজানু হতে দেওয়া হবে না।

শাপলা স্মৃতি সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১৩ সালের নৃশংস গণহত্যার প্রামাণ্য ইতিহাস সংরক্ষণে ‘শহীদনামা’ নামক ঐতিহাসিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত তালিকা না ধরে, ভবিষ্যতে প্রাপ্ত প্রতিটি শহীদ পরিবারের সঠিক তথ্য পরবর্তী সংস্করণে যুক্ত করা হবে। শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রতিটি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব ও আখেরাতের নাজাতের উসিলা মনে করে।

তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যকে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাহিত্য, শিল্প ও নান্দনিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শাপলার ভয়াল রাতের গণহত্যার প্রকৃত ইতিহাস, প্রামাণ্যচিত্র ও তথ্যচিত্র ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘শাপলা কর্নার’-এ তরুণ লেখক ও গবেষকদের রচিত শাপলাবিষয়ক বইসমূহ এক ছাদের নিচে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : আল্লামা মামুনুল হক ৩৬ জুলাই শাপলার চেতনা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: আল্লামা মামুনুল হক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঈমানী মহাজাগরণ ও রক্তঝরা শাহাদাতই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবর্তন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আল্লামা মামুনুল হক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম পূর্ব চত্বরে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’-এর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে শাপলার এই নবীপ্রেমের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে।

৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের রক্তঝরা চেতনার কাছে গভীরভাবে ঋণী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক, নীতিভিত্তিক ও বিশ্বাসকেন্দ্রিক ধারায় পরিচালিত করতে হলে এই জাগরণের মূল প্রেরণা তথা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসার ভিত্তিকে শক্তভাবে ধারণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় শাপলা স্মৃতি সংসদের বিশেষ উদ্যোগ ‘শাপলা কর্নার’-এর শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তি ও সামাজিক রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'একটি জাতির রাজনীতি, সামাজিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের পেছনে তার সংস্কৃতির ভূমিকা সবচেয়ে গভীর। সামাজিক সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ থেকেই মূল রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়। কোনো জাতি তার সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে যেভাবে ধারণ করে, তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলাও সেভাবেই নির্ধারিত হয়।'

তিনি অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন একটি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বুনিয়াদ তৈরি করেছিল। ঠিক একইভাবে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক গণজাগরণ ছিল দেশের আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ ও মুমিন হৃদয়ের এক অভূতপূর্ব ঈমানী বিপ্লব। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ইজ্জত রক্ষা ও ভালোবাসার পবিত্র টানে সর্বোচ্চ কোরবানি দেওয়ার এই চেতনা ইসলামবিদ্বেষ ও নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রধান সামাজিক প্রতিরোধে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানও সেই শাপলার শহীদদের রক্তের ওপর নির্মিত বুনিয়াদেরই ধারাবাহিক রূপ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাপলা গণহত্যা কেন্দ্র করে বাংলাদেশে দুটি সুস্পষ্ট ধারা তৈরি হয়েছে—একদিকে রাসুলপ্রেম, ঈমান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ধারা; অপরদিকে নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা। এই ঈমানী ধারাকে কোনো পরিস্থিতিতেই অন্য কোনো আদর্শের কাছে নতজানু হতে দেওয়া হবে না।

শাপলা স্মৃতি সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১৩ সালের নৃশংস গণহত্যার প্রামাণ্য ইতিহাস সংরক্ষণে ‘শহীদনামা’ নামক ঐতিহাসিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত তালিকা না ধরে, ভবিষ্যতে প্রাপ্ত প্রতিটি শহীদ পরিবারের সঠিক তথ্য পরবর্তী সংস্করণে যুক্ত করা হবে। শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রতিটি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব ও আখেরাতের নাজাতের উসিলা মনে করে।

তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যকে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাহিত্য, শিল্প ও নান্দনিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শাপলার ভয়াল রাতের গণহত্যার প্রকৃত ইতিহাস, প্রামাণ্যচিত্র ও তথ্যচিত্র ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘শাপলা কর্নার’-এ তরুণ লেখক ও গবেষকদের রচিত শাপলাবিষয়ক বইসমূহ এক ছাদের নিচে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ