শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলাম ও কোরআন পরিপন্থী বক্তব্য, বিতর্কিত বিল পাস এবং বিশ্বজয়ী হাফেজদের বিতর্কিত গ্রন্থ তুলে দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা বার্তা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

জাতীয় সংসদে কুরআনবিরোধী বিল ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ খেলাফত আন্দোলনের


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে কুরআনবিরোধী বিল ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ খেলাফত আন্দোলনের

জাতীয় সংসদে বিতর্কিত বিল পাস, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিতর্কিত মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানীয় বিশ্বজয়ী হাফেজদের হাতে ইসলামবিরোধী ভাবধারার গ্রন্থ তুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার এক জরুরি বৈঠকে বক্তারা দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর কোনো অপপ্রয়াস বা চক্রান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সাম্প্রতিক নীতি, সংসদীয় সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বক্তব্যে গভীর সংশয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মজলিসে আমেলার বিশেষ বৈঠকে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, একের পর এক ইসলামবিরোধী ও কুরআন পরিপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের অধিকাংশ সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত হানছে।

বৈঠকে নেতারা জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’-এর কঠোর সমালোচনা করে একে কুরআনবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেন। একই সাথে আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য—যেখানে বলা হয়েছিল 'কোরআন মানবজাতির সংবিধান হতে পারে না'—তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁরা। খেলাফত আন্দোলন নেতাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আলেম সমাজ ও সাধারণ মুমিন মুসলমানের বিশ্বাসে গুরুতর আঘাত এনেছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী খুদে হাফেজদের সংবর্ধনায় সমকামিতায় উৎসাহিত করার মতো বিতর্কিত ‘নেক্সাস’ বইটি পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তারা। নেতৃবৃন্দের মতে, একদিকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মাছের পোনা ছাড়ার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক বিভ্রাট, অন্যদিকে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা হাফেজদের হাতে এই জাতীয় অনৈতিক ভাবধারার বই তুলে দেওয়া—প্রশাসনের একটি চক্রের সুগভীর ইসলামবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

দলটির প্রধান মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, শাইখুল হাদিস মাওলানা শেখ আজিমুদ্দিন, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাঈদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, 'স্পষ্টতই মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে অবস্থান নেওয়া একটি অসাধু, দুর্নীতিবাজ ও ইসলামবিদ্বেষী মহল সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কুরআনবিরোধী বিল উত্থাপন এবং শিশু হাফেজদের হাতে অনৈতিক গ্রন্থ তুলে দেওয়া তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।' তিনি অবিলম্বে ইসলাম ও জাতীয় মূল্যবোধ বিরোধী এসব কার্যকলাপ বন্ধ করতে এবং সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

বিষয় : ইসলাম খেলাফত আন্দোলন কোরআন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাতীয় সংসদে কুরআনবিরোধী বিল ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ খেলাফত আন্দোলনের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে বিতর্কিত বিল পাস, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিতর্কিত মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানীয় বিশ্বজয়ী হাফেজদের হাতে ইসলামবিরোধী ভাবধারার গ্রন্থ তুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার এক জরুরি বৈঠকে বক্তারা দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর কোনো অপপ্রয়াস বা চক্রান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সাম্প্রতিক নীতি, সংসদীয় সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বক্তব্যে গভীর সংশয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মজলিসে আমেলার বিশেষ বৈঠকে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, একের পর এক ইসলামবিরোধী ও কুরআন পরিপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের অধিকাংশ সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত হানছে।

বৈঠকে নেতারা জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’-এর কঠোর সমালোচনা করে একে কুরআনবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেন। একই সাথে আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য—যেখানে বলা হয়েছিল 'কোরআন মানবজাতির সংবিধান হতে পারে না'—তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁরা। খেলাফত আন্দোলন নেতাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আলেম সমাজ ও সাধারণ মুমিন মুসলমানের বিশ্বাসে গুরুতর আঘাত এনেছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী খুদে হাফেজদের সংবর্ধনায় সমকামিতায় উৎসাহিত করার মতো বিতর্কিত ‘নেক্সাস’ বইটি পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তারা। নেতৃবৃন্দের মতে, একদিকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মাছের পোনা ছাড়ার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক বিভ্রাট, অন্যদিকে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা হাফেজদের হাতে এই জাতীয় অনৈতিক ভাবধারার বই তুলে দেওয়া—প্রশাসনের একটি চক্রের সুগভীর ইসলামবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

দলটির প্রধান মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, শাইখুল হাদিস মাওলানা শেখ আজিমুদ্দিন, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাঈদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, 'স্পষ্টতই মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে অবস্থান নেওয়া একটি অসাধু, দুর্নীতিবাজ ও ইসলামবিদ্বেষী মহল সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কুরআনবিরোধী বিল উত্থাপন এবং শিশু হাফেজদের হাতে অনৈতিক গ্রন্থ তুলে দেওয়া তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।' তিনি অবিলম্বে ইসলাম ও জাতীয় মূল্যবোধ বিরোধী এসব কার্যকলাপ বন্ধ করতে এবং সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ