অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার মুহাম্মদ সুলাইমান বিউকসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) গাজার খান ইউনিস এবং পূর্ব গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় এসব পৃথক হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের ছেলেও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আল-জাজিরা।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর গণহত্যা ও আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সামরিক অভিযানে গাজার দক্ষিণ ঘণ্টার খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার মুহাম্মদ সুলাইমান বিউক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, বৃহস্পতিবার গাজার খান ইউনিসে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত অভিযানে সুলাইমান বিউক নিহত হন। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে পরিচালিত প্রতিরোধমূলক অভিযানে বিউকের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
এদিকে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলা থামছে না। বিউকের ওপর হামলার পাশাপাশি গাজার অন্যান্য অংশেও রক্তক্ষয়ী আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে আরও অন্তত চারজন সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশের প্রিয় পুত্রও নিহত হয়েছেন। নিজ দেশে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের মুখে চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে গিয়ে পরিবার হারানোর এই ভয়াবহ শোক গাজার মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করেছে।
এছাড়া, পূর্ব গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে চালানো পৃথক এক হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে চিকিৎসা সংকট ও খাদ্যাভাবের মধ্যেই বেসামরিক ও চিকিৎসকদের ওপর অব্যাহত এই টার্গেটেড হামলা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কওমি টাইমস বিশ্বনেতৃত্বের কাছে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর চলমান এই পৈশাচিক গণহত্যা বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছে।
মতামত