শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

কেরালার সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা স্থাপনায় প্রায় এক বছর পর আটক চুক্তিভিত্তিক কর্মী; মোদি সরকারের অধীনে 'বাংলাদেশি' ট্যাগে ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্তার ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ।

ভারতের সংবেদনশীল নৌবাহিনী একাডেমিতে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে আটক ১


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সংবেদনশীল নৌবাহিনী একাডেমিতে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে আটক ১

ভারতের কেরালা রাজ্যে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘এজিমালা নেভাল একাডেমি’ থেকে বিপ্লব সোরেন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ সন্দেহে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে প্রায় এক বছর ধরে সেখানকার লন্ড্রি বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছিলেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে আটক ব্যক্তি আদৌ বিদেশি নাকি নথির জটিলতায় ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক—তা স্পষ্ট নয়।

ভারতের কেরালা রাজ্যের পায়ান্নুরে অবস্থিত এজিমালা নেভাল একাডেমি থেকে শুক্রবার রাতে বিপ্লব সোরেন নামক ৩২ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এজিমালা ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে দেশটির নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সামরিক কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মতো একটি উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত সামরিক এলাকায় একজন ব্যক্তি ভুয়া নথিপত্র দিয়ে দীর্ঘ এক বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করে গেলেন—এই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত গাফিলতি প্রকাশ পাওয়ার পর কেরালা পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সার্কেল ইন্সপেক্টর মাহেশ কে নাইর এবং পায়ান্নুর থানার উপপরিদর্শক সুহাইবের নেতৃত্বে পুলিশ দল তাকে হেফাজতে নেয়।

তবে আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। পুলিশ কর্মকর্তা মাহেশ কে নাইর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "তার আসল নাম বিপ্লব সোরেন কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার পর থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কথিত 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করছে। অতীতেও একাধিক ক্ষেত্রে তথাকথিত 'বাংলাদেশি' সন্দেহে অনেককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া ও কারাগারে পাঠানোর পর দেখা গেছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ভারতেরই নাগরিক।

এই ঘটনার পেছনে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা নাকি প্রান্তিক কোনো নাগরিককে 'বাংলাদেশি' বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয় : ভারত বাঙালি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতের সংবেদনশীল নৌবাহিনী একাডেমিতে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে আটক ১

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের কেরালা রাজ্যে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘এজিমালা নেভাল একাডেমি’ থেকে বিপ্লব সোরেন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ সন্দেহে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে প্রায় এক বছর ধরে সেখানকার লন্ড্রি বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছিলেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে আটক ব্যক্তি আদৌ বিদেশি নাকি নথির জটিলতায় ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক—তা স্পষ্ট নয়।

ভারতের কেরালা রাজ্যের পায়ান্নুরে অবস্থিত এজিমালা নেভাল একাডেমি থেকে শুক্রবার রাতে বিপ্লব সোরেন নামক ৩২ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এজিমালা ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে দেশটির নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সামরিক কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মতো একটি উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত সামরিক এলাকায় একজন ব্যক্তি ভুয়া নথিপত্র দিয়ে দীর্ঘ এক বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করে গেলেন—এই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত গাফিলতি প্রকাশ পাওয়ার পর কেরালা পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সার্কেল ইন্সপেক্টর মাহেশ কে নাইর এবং পায়ান্নুর থানার উপপরিদর্শক সুহাইবের নেতৃত্বে পুলিশ দল তাকে হেফাজতে নেয়।

তবে আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। পুলিশ কর্মকর্তা মাহেশ কে নাইর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "তার আসল নাম বিপ্লব সোরেন কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার পর থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কথিত 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করছে। অতীতেও একাধিক ক্ষেত্রে তথাকথিত 'বাংলাদেশি' সন্দেহে অনেককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া ও কারাগারে পাঠানোর পর দেখা গেছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ভারতেরই নাগরিক।

এই ঘটনার পেছনে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা নাকি প্রান্তিক কোনো নাগরিককে 'বাংলাদেশি' বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ