তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশের একটি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এক শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে অন্তত ১১ জন সহপাঠীকে আহত করেছে। মঙ্গলবার সকালে ক্লাস শুরুর আগে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ অবিলম্বে হামলাকারী শিক্ষার্থীকে আটক করেছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মালিকসহ তার অভিভাবকদের হেফাজতে নিয়েছে।
তুরস্কের মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত 'ইনসি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাই স্কুল'-এ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার (০৫:০০ জিএমটি) দিকে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
তুর্কি বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে দুজন শিক্ষার্থী গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিচারমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।' তিনি আরও জানান, শিশুটি কীভাবে এই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেল, অস্ত্রটি বাড়িতে কী অবস্থায় রাখা হয়েছিল, সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের তদারকির দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ঘটনার আগে স্কুলে কোনো বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বহু মাত্রায় তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত হামলাকারী শিক্ষার্থীকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্তের খাতিরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা, মা এবং তার দাদাকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত রাইফেলটি ওই শিক্ষার্থীর দাদার নামে নিবন্ধিত ছিল।
অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে রাইফেল নিয়ে স্কুলের পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এবং মুহূর্ত পরেই সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে স্কুলের বাইরে ভিড় জমানো ব্যাকুল অভিভাবকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে দিতে পুলিশকে কঠোর হতে দেখা যায়।
হামলার মূল কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পর তুরস্কের সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এটি পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি জেভদেত ইলমাজ জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সরাসরি তদন্ত তদারকির জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফতচি এবং শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ তেকিন জরুরি ভিত্তিতে মানিসায় পৌঁছেছেন।
উল্লেখ্য, তুরস্কে অতীতে কখনো স্কুলে এ ধরনের বন্দুক হামলার ইতিহাস ছিল না। কিন্তু চলতি বছরের (২০২৬) এপ্রিল মাসে পর পর দুটি প্রাণঘাতী স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। সে সময় সরকার ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ জোরদারসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছিল। নতুন সেই শিক্ষাবর্ষ শুরুর পরপরই আবার এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মতামত