আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার বিশ্বের সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি জানান, চীন, রাশিয়া ও মুসলিম বিশ্বসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কাবুলের চমৎকার কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সাথে কিছু সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক উপস্থিতি মজবুত করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছে আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামী সরকার। আফগান সরকারের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান, আফগানিস্তান বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সাথেই পারস্পরিক সম্মান ও সুবিধার ভিত্তিতে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি চীন, রাশিয়া এবং বিশ্বের বৃহৎ মুসলিম দেশগুলোর সাথে বর্তমানে আফগানিস্তানের অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এসব দেশের সাথে সম্পর্ক দিন দিন আরও গাঢ় হচ্ছে।
তবে প্রতিবেশীদের সাথে সার্বিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানের সাথে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একমাত্র পাকিস্তান ব্যতীত অন্য সকল আঞ্চলিক প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ইসলামাবাদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যা কাবুলের কাম্য ছিল না।
ইমারাতে ইসলামীর মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আফগান সরকার বিশ্বজুড়ে সকল দেশের সাথে ইতিবাচক ও অর্থবহ পারস্পরিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী। সময়ের সাথে সাথে বিদ্যমান সমস্যা ও মতপার্থক্যগুলো দূর করে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা অর্জনে আফগানিস্তান ইতিবাচক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের নীতিমালা বজায় রেখে আফগানিস্তান মুসলিম বিশ্বের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতামত