ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর উজ্জয়িনীতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদ উচ্ছেদের প্রশাসনিক চক্রান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে হাজার হাজার স্থানীয় মুসলিম রাস্তায় নামলে পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২৮ সালের 'সিংহস্থ মেলা'র জন্য সড়ক প্রসস্তকরণের অজুহাতে এই প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তিটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে স্থানীয় পৌরসভা।
ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপিশাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অন্তত ছয় শতক পুরনো শাহী মসজিদ আংশিক বা সম্পূর্ণ উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে এই প্রাচীন ওয়াকফ স্থাপনাটি রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিল।
তবে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় প্রশাসনের উচ্ছেদ তরান্বিত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। বুলডোজারের হিংস্র থাবা থেকে মসজিদের মূল অবকাঠামো বাঁচাতে কমিটির সেচ্ছাসেবকরা চোখের পানিতে নিজেদের হাতেই বারান্দার তিন ফুট ঝুলন্ত অংশ (হ্যাংগিং স্ল্যাব) ভেঙে ফেলার করুণ সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক অশ্রুসজল মুসল্লি ক্রন্দনরত কণ্ঠে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানিয়ে বলছেন, 'ইয়া আল্লাহ, মদদ কর! ইয়া আল্লাহ, এই হাতগুলো দিয়েই দাঁড়িয়ে থেকে এটি নির্মাণ করানো হয়েছিল, আর আজ তোমার হুকুমে এই হাত দিয়েই তা ভাঙতে হচ্ছে!'
বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ থামানোর এই হৃদয়বিদারক চেষ্টার মধ্যেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় জনগণের ওপর চড়াও হয়। এতে বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উজ্জনীয়ী পুলিশ বাদী হয়ে ৩০ জনের নামে এফআইআর দায়ের করে এবং ২০ জন নিরীহ মুসলিমকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট 'শাহী মসজিদ ওয়াকফ পঞ্চায়েত মোছিয়ান' কর্তৃক দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে পৌরসভার উচ্ছেদ নোটিশকে বহাল রাখে। মুসলিম পক্ষের আইনজীবীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ— সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক স্থগিতাদেশ (Stay Order) আসার আগেই প্রশাসনিক গায়ের জোরে এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তড়িঘড়ি করে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে উজ্জয়িনী পৌরসভা।
মতামত