বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার আলোকেই রিয়াদের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনে পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ইসলামাবাদের।

সৌদি আরবের সুরক্ষায় সব শক্তি প্রয়োগে বাধ্য পাকিস্তান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের সুরক্ষায় সব শক্তি প্রয়োগে বাধ্য পাকিস্তান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের যেকোনো সামরিক শক্তি ও সামর্থ্য উজাড় করে দিতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরবের যেকোনো শত্রু পাকিস্তানেরও শত্রু। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ামেনের হুথি গোষ্ঠীসহ যেকোনো বাহ্যিক আগ্রাসন থেকে পবিত্র হারামাইন শারিফাইন ও রিয়াদকে রক্ষা করা পাকিস্তানের ঐতিহাসিক, চুক্তিভিত্তিক ও ঈমানি দায়িত্ব।

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেদের সমস্ত সামরিক সামর্থ্য নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ জোর দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তান তাদের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির আলোকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে বাধ্য।

খাজা আসিফ বলেন, 'সৌদি আরবকে রক্ষা করার বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সমঝোতা ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর অর্থ হলো— আমাদের হাতে থাকা সমস্ত শক্তি ও কৌশলগত সামর্থ্য রিয়াদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হবে।'

ইয়ামেন ভিত্তিক সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের আগ্রাসনের বিষয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানের কোনো অস্পষ্টতা নেই। যেকোনো দেশের সরকার, কোনো আঞ্চলিক গোষ্ঠী কিংবা হুথিদের মতো সংগঠন থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় আঘাত আসলে পাকিস্তান সরাসরি প্রতিরক্ষায় অংশ নেবে।

প্রক্সি গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

ইরানের সাথে হুথিদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ উল্লেখ করেন, তেহরান কখনোই হুথিদের তাদের সরাসরি ‘প্রক্সি’ হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইতিহাসজুড়ে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে— পরাশক্তি বা কোনো দেশের সমর্থনে তৈরি হওয়া প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সময়ের পরিক্রমায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় (রগ এনটিটি) এবং নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়ামেন যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। ২০১৯ সালে রিয়াদের আরামকো তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটিয়েছিল দলটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সৌদি আরবের একাধিক নগরী ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ঈমানি দায়িত্ব

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব পবিত্র নগরী মক্কায় হামলা চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান এবং ত্রিদেশীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র (Makkah Joint Defence Agreement) অধীনে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।

পাকিস্তানের একটি শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া অপর সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্পষ্ট করেন যে, চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, বায়তুল্লাহ ও পবিত্র মদীনা শারিফাইন রক্ষা করা মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অংশীদার হিসেবে পাকিস্তানের জন্য এক ‘অনন্ত ঈমানি দায়িত্ব’। তিনি বলেন, 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আমাদের পার্থিব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হতে পারে, তবে কাবাগৃহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য আখেরাতের দায়িত্ব। যেকোনো মূল্যে হারামাইন শারিফাইনের পবিত্রতা রক্ষা করবে পাকিস্তান।'

বিষয় : পাকিস্তান সৌদি আরব

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


সৌদি আরবের সুরক্ষায় সব শক্তি প্রয়োগে বাধ্য পাকিস্তান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের যেকোনো সামরিক শক্তি ও সামর্থ্য উজাড় করে দিতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরবের যেকোনো শত্রু পাকিস্তানেরও শত্রু। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ামেনের হুথি গোষ্ঠীসহ যেকোনো বাহ্যিক আগ্রাসন থেকে পবিত্র হারামাইন শারিফাইন ও রিয়াদকে রক্ষা করা পাকিস্তানের ঐতিহাসিক, চুক্তিভিত্তিক ও ঈমানি দায়িত্ব।

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেদের সমস্ত সামরিক সামর্থ্য নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ জোর দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তান তাদের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির আলোকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে বাধ্য।

খাজা আসিফ বলেন, 'সৌদি আরবকে রক্ষা করার বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সমঝোতা ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর অর্থ হলো— আমাদের হাতে থাকা সমস্ত শক্তি ও কৌশলগত সামর্থ্য রিয়াদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হবে।'

ইয়ামেন ভিত্তিক সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের আগ্রাসনের বিষয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানের কোনো অস্পষ্টতা নেই। যেকোনো দেশের সরকার, কোনো আঞ্চলিক গোষ্ঠী কিংবা হুথিদের মতো সংগঠন থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় আঘাত আসলে পাকিস্তান সরাসরি প্রতিরক্ষায় অংশ নেবে।

প্রক্সি গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

ইরানের সাথে হুথিদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ উল্লেখ করেন, তেহরান কখনোই হুথিদের তাদের সরাসরি ‘প্রক্সি’ হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইতিহাসজুড়ে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে— পরাশক্তি বা কোনো দেশের সমর্থনে তৈরি হওয়া প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সময়ের পরিক্রমায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় (রগ এনটিটি) এবং নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়ামেন যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। ২০১৯ সালে রিয়াদের আরামকো তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটিয়েছিল দলটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সৌদি আরবের একাধিক নগরী ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ঈমানি দায়িত্ব

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব পবিত্র নগরী মক্কায় হামলা চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান এবং ত্রিদেশীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র (Makkah Joint Defence Agreement) অধীনে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।

পাকিস্তানের একটি শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া অপর সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্পষ্ট করেন যে, চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, বায়তুল্লাহ ও পবিত্র মদীনা শারিফাইন রক্ষা করা মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অংশীদার হিসেবে পাকিস্তানের জন্য এক ‘অনন্ত ঈমানি দায়িত্ব’। তিনি বলেন, 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আমাদের পার্থিব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হতে পারে, তবে কাবাগৃহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য আখেরাতের দায়িত্ব। যেকোনো মূল্যে হারামাইন শারিফাইনের পবিত্রতা রক্ষা করবে পাকিস্তান।'


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ