শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ—আলেম ও শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের স্থান বাংলাদেশে আর হবে না।

স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক স্থান হবে না। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তী সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস পুনসংযোজন এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা এ দেশের মানুষের ওপর চরম অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের রক্ত নিয়েছে, সেই জালেম স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী ফ্যাসিবাদীদের পুনর্গমন বা স্থান এই স্বাধীন ভূখণ্ডে আর কখনো হবে না।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ওলামায়ে কেরাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের সময় এবং তার আগে হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পক্ষে, দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জারি রেখেছিল।"

ইসলামী মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে এ দেশের জনগণকে উদ্ধার করতে ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছেন আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজ। কত আলেম ও ছাত্র শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকের নাম এখনও আমরা জানি না, কবরের ঠিকানা জানি না। এত রক্তদানের মধ্য দিয়ে, রক্তের সিঁড়ি বেয়ে এক রক্তাক্ত উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা এই ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।"

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ও বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "জাতিসংঘের হিসাব মতে কেবল জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে। আর তার আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। আমিও সেই গুমের শিকারদের একজন ছিলাম। মহান রব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন, আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে আছি। এছাড়া প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ সাজানো মামলা ও হামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের ফিরে আসতে দেব? তাহলে আজকে যারা পোশাক খাতে বা বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে, তারা মূলত সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের ক্ষেত্র তৈরি করছে।"

ইসলামের নামে রাজনৈতিক অপপ্রচারের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এ দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী আছে যারা ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করে, অথচ তাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ইসলামের ধারে-কাছেও কিছু নেই। তাদের দলীয় দলিল থেকে 'আকিমুদ্দিন' (দ্বীন কায়েমের নির্দেশ) বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু দলিলে ভিন্ন রূপ দেখায়।"

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছি এবং কোরআনের বিধানকে সম্মান জানিয়েছি। এ দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, যেখানে বিভেদের কোনো স্থান নেই।"

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে যে 'জুলাই সনদ' প্রণীত হয়েছে, তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে ইসলামী মূল্যবোধের সকল বিষয় সংবিধানে ধারণ করা হবে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দিয়েছিলেন, আমরা তা পুনঃস্থাপন করব। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ও মূলনীতিতে 'মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস' কথাটি পুনরায় স্থান পাবে, ইনশাআল্লাহ।"

বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, "আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক ভিন্নমত বা আদর্শগত দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্নে পুরো জাতি একমত—যারা দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামার রক্ত ঝরিয়েছে, মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়ে মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এ দেশের জমিনে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।"

বিষয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাবুনগর মাদরাসা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক স্থান হবে না। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তী সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস পুনসংযোজন এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা এ দেশের মানুষের ওপর চরম অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের রক্ত নিয়েছে, সেই জালেম স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী ফ্যাসিবাদীদের পুনর্গমন বা স্থান এই স্বাধীন ভূখণ্ডে আর কখনো হবে না।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ওলামায়ে কেরাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের সময় এবং তার আগে হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পক্ষে, দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জারি রেখেছিল।"

ইসলামী মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে এ দেশের জনগণকে উদ্ধার করতে ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছেন আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজ। কত আলেম ও ছাত্র শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকের নাম এখনও আমরা জানি না, কবরের ঠিকানা জানি না। এত রক্তদানের মধ্য দিয়ে, রক্তের সিঁড়ি বেয়ে এক রক্তাক্ত উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা এই ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।"

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ও বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "জাতিসংঘের হিসাব মতে কেবল জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে। আর তার আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। আমিও সেই গুমের শিকারদের একজন ছিলাম। মহান রব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন, আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে আছি। এছাড়া প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ সাজানো মামলা ও হামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের ফিরে আসতে দেব? তাহলে আজকে যারা পোশাক খাতে বা বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে, তারা মূলত সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের ক্ষেত্র তৈরি করছে।"

ইসলামের নামে রাজনৈতিক অপপ্রচারের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এ দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী আছে যারা ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করে, অথচ তাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ইসলামের ধারে-কাছেও কিছু নেই। তাদের দলীয় দলিল থেকে 'আকিমুদ্দিন' (দ্বীন কায়েমের নির্দেশ) বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু দলিলে ভিন্ন রূপ দেখায়।"

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছি এবং কোরআনের বিধানকে সম্মান জানিয়েছি। এ দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, যেখানে বিভেদের কোনো স্থান নেই।"

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে যে 'জুলাই সনদ' প্রণীত হয়েছে, তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে ইসলামী মূল্যবোধের সকল বিষয় সংবিধানে ধারণ করা হবে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দিয়েছিলেন, আমরা তা পুনঃস্থাপন করব। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ও মূলনীতিতে 'মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস' কথাটি পুনরায় স্থান পাবে, ইনশাআল্লাহ।"

বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, "আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক ভিন্নমত বা আদর্শগত দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্নে পুরো জাতি একমত—যারা দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামার রক্ত ঝরিয়েছে, মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়ে মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এ দেশের জমিনে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ