রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র ইসরায়েলি দখলদার ও সেনাবাহিনীর তাণ্ডব বৃদ্ধিতে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ; মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও কালো তালিকার প্রস্তুতি।

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চিন্তাভাবনা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চিন্তাভাবনা

ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাসদস্যদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও তাণ্ডবের জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনে জড়িত ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে মার্কিন নির্মিত অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। খবরটি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হারেতজ'।

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাসকারী ও অবৈধ ইসরায়েলি দখলদারদের নৃশংসতা চরম আকার ধারণ করায় তেল আবিব সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন আন্তর্জাতিক মহল। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনকারী ইসরায়েলি সেনাদল ও কট্টরপন্থী দখলদারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

হারেতজ পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ওয়াশিংটন প্রশাসন সম্প্রতি অবরুদ্ধ ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে কট্টরপন্থী ইসরায়েলিদের উগ্র কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তীব্র সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পশ্চিম তীরে সহিংসতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে এসব হামলাকে "ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর কাজ" বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বাস্তবতা তেমন নয়; বরং এই তাণ্ডব অত্যন্ত সুসংগঠিত ও ব্যাপক।

যেসব শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন

  • মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়ানো ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর মার্কিন তৈরি অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
  • সামরিক ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা: ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সরাসরি আক্রমণকারী বা হামলাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া ইসরায়েলি সেনা ইউনিটগুলোকে মার্কিন সহায়তার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
  • কালো তালিকা প্রণয়ন: ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলা চোখ বুজে সহ্য করা বা তাদের মদদ দেওয়া ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সনাক্ত করে একটি বিশেষ "কালো তালিকা" তৈরি করার বিষয়েও তেল আবিবকে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন এবং তার এক সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর তাণ্ডবের পরিসংখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইসরায়েল নীতির প্রতি সমর্থন দ্রুত হ্রাস পাওয়ার মাঝেই এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার খবরটি সামনে এলো। এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডার নেতৃত্বে ১২টি পশ্চিমা দেশ দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারদের তাণ্ডব কতটা মারাত্মক রূপ নিয়েছে, তা সরকারি উপাত্ত থেকেই স্পষ্ট। কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণ, তাদের কৃষিজমি ও ধনসম্পদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী এবং উগ্র দখলদাররা অন্তত ২,০৫১টি হামলা চালিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার, বাড়িঘরে হামলা, জমি দখল এবং হত্যাযজ্ঞ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিষয় : পশ্চিম তীর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চিন্তাভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাসদস্যদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও তাণ্ডবের জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনে জড়িত ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে মার্কিন নির্মিত অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। খবরটি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হারেতজ'।

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাসকারী ও অবৈধ ইসরায়েলি দখলদারদের নৃশংসতা চরম আকার ধারণ করায় তেল আবিব সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন আন্তর্জাতিক মহল। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনকারী ইসরায়েলি সেনাদল ও কট্টরপন্থী দখলদারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

হারেতজ পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ওয়াশিংটন প্রশাসন সম্প্রতি অবরুদ্ধ ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে কট্টরপন্থী ইসরায়েলিদের উগ্র কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তীব্র সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পশ্চিম তীরে সহিংসতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে এসব হামলাকে "ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর কাজ" বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বাস্তবতা তেমন নয়; বরং এই তাণ্ডব অত্যন্ত সুসংগঠিত ও ব্যাপক।

যেসব শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন

  • মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়ানো ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর মার্কিন তৈরি অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
  • সামরিক ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা: ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সরাসরি আক্রমণকারী বা হামলাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া ইসরায়েলি সেনা ইউনিটগুলোকে মার্কিন সহায়তার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
  • কালো তালিকা প্রণয়ন: ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলা চোখ বুজে সহ্য করা বা তাদের মদদ দেওয়া ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সনাক্ত করে একটি বিশেষ "কালো তালিকা" তৈরি করার বিষয়েও তেল আবিবকে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন এবং তার এক সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর তাণ্ডবের পরিসংখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইসরায়েল নীতির প্রতি সমর্থন দ্রুত হ্রাস পাওয়ার মাঝেই এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার খবরটি সামনে এলো। এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডার নেতৃত্বে ১২টি পশ্চিমা দেশ দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারদের তাণ্ডব কতটা মারাত্মক রূপ নিয়েছে, তা সরকারি উপাত্ত থেকেই স্পষ্ট। কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণ, তাদের কৃষিজমি ও ধনসম্পদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী এবং উগ্র দখলদাররা অন্তত ২,০৫১টি হামলা চালিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার, বাড়িঘরে হামলা, জমি দখল এবং হত্যাযজ্ঞ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ