বাংলাদেশ সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপনকারী দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, 'আপনাদের এখানে একটি প্রচলিত স্লোগান রয়েছে—'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'। আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার'। এটি রাষ্ট্র ও সংবিধান থেকে প্রাপ্ত অধিকার, যা রক্ষা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
আজ রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে এক ভাবগম্ভীর ও উৎসবমুখর আবহভে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, যুগে যুগে এই ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে বসবাস করে আসছে। দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলায় এই অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধনকে নষ্ট করতে একটি মহল বারবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, '১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমরা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছিলাম, আমরা আজও সেই মূলনীতিতে অবিচল। এটি রক্ষায় আমরা যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।' রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের মূল ধারার জনগণ কখনই উগ্রবাদে বিশ্বাসী নয় এবং চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না।
বাংলাদেশে হিন্দু বা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভুয়া খবর এবং সম্প্রীতি বিনষ্টের যে মনগড়া তথ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় করে প্রচার করা হয়, তার তীব্র সমালোচনা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, নানা কুচক্রী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালায়। কিন্তু বাংলাদেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ বরাবরের মতোই প্রমাণ করেছে যে, তারা নিজস্ব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব শতস্ফূর্তভাবে পালন করতে সক্ষম।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা এক ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে রূপান্তরের পথ অতিক্রম করছি। এই ট্রানজিশন পর্বে সবাইকে ধৈর্য ধরে জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিচয় দিতে হবে।' তিনি আরও জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের সার্বিক শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ। এর আগে রাষ্ট্রপতি ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তিনি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।
মতামত