দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে সুপরিচিত করতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন ভ্রমণের বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর ৩য় থেকে ১২শ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত এই নীতিমালার আওতায় শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও তোশাখানা জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় মূলধারার ভাবধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আদেশে বলা হয়, সাধারণ ও মাদরাসা শিক্ষার সমন্বিত চেতনার আলোকে ৩য় থেকে ১২শ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন থেকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক হৃদপিণ্ড 'বঙ্গভবন' পরিদর্শন করতে পারবে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগ থেকে প্রণীত পরিদর্শনের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পরিদর্শনে ইচ্ছুক প্রতিটি মাদরাসা দল সর্বনিম্ন ৩০ জন এবং সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে গঠিত হতে পারবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তার জন্য দলের সাথে ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি অবস্থান করবেন। পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ মাদরাসার নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিফর্ম পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
পুরো বঙ্গভবন পরিদর্শনের জন্য মোট ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও ঐতিহাসিক বস্তুসমৃদ্ধ 'তোশাখানা জাদুঘর' ঘুরে দেখবে। একইসাথে বঙ্গভবনের ইতিহাস, গুরুত্ব ও রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নির্মিত বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। এছাড়া বঙ্গভবনের দরবার হল ও মূল ভবনের সামনে ফটোসেশন, ঐতিহাসিক এয়ার রেইড শেলটার এবং মনোমুগ্ধকর হরিণপার্ক সরেজমিনে দেখার বিরল সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।
উচ্চ নিরাপত্তা বলয় হওয়ায় বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশ ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলামূলক নিয়মাবলী আরোপ করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কারো সাথেই কোনো প্রকার মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, স্মার্টওয়াচ বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং কোনো ধরনের ব্যাগ বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুবিধার্থে পরিদর্শনে ব্যবহৃত যানবাহন বঙ্গভবনের বাইরে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে পার্কিং করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহাসিক পরিদর্শনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যক্তিগত ক্যামেরা নিষিদ্ধ থাকলেও বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আলোকচিত্রীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হবে। এর জন্য পরিদর্শনকারী দলের প্রতিনিধিকে একটি পেনড্রাইভ সাথে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রমণ মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় ইতিহাস প্রত্যক্ষ করা ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগী হতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
মতামত