সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপচেষ্টা রুখতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ; সংবিধানে সব নাগরিকের স্বাধীন ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে এবং আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব নিরাপদে উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ডিজিটাল মাধ্যমে অসত্য তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।'

সংবিধানের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করবেন—এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানোর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) সহ পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলমান বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মণ্ডপ ও বিহারগুলোর নিরাপত্তায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ ডিজিটাল ও অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার মৌলিক তাৎপর্য, সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, তালিকা পাওয়ার সাথে সাথেই তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে, যাতে প্রতিটি বিহারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : আইনশৃঙ্খলা সম্প্রীতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে এবং আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব নিরাপদে উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ডিজিটাল মাধ্যমে অসত্য তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।'

সংবিধানের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করবেন—এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানোর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) সহ পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলমান বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মণ্ডপ ও বিহারগুলোর নিরাপত্তায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ ডিজিটাল ও অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার মৌলিক তাৎপর্য, সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, তালিকা পাওয়ার সাথে সাথেই তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে, যাতে প্রতিটি বিহারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ