গাজার দক্ষিণ অঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য তৈরি অস্থায়ী তাঁবুগুলোর মাঝেই এখন শোনা যাচ্ছে পাঞ্চিং ব্যাগের শব্দ। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা আর বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে বক্সিং বা ‘আভিজাত্যের শিল্প’ (Noble Art) চর্চায় মেতেছে একদল অদম্য কিশোরী। প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তারা কেবল শরীরচর্চা নয়, বরং নিজেদের মানসিক শক্তি ও টিকে থাকার লড়াই জারি রেখেছে।
গাজা উপত্যকার দক্ষিণ শহর খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় চারদিকে সারি সারি তাঁবু। এই অস্থায়ী আশ্রয়ের ধুলোবালির মাঝেই ১৬ বছরের কম বয়সী একদল কিশোরী নিয়মিত বক্সিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গাজার এই চরম মানবিক সংকটের মুহূর্তে বক্সিং তাদের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর নিরন্তর হামলার ফলে সৃষ্ট ট্রমা ও নেতিবাচক শক্তি দূর করার একটি প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বক্সিং ক্লাবের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রশিক্ষণের জন্য তাদের কাছে ছিল না কোনো গ্লাভস, ম্যাট বা আধুনিক জিম সরঞ্জাম। শুরুতে বালুভর্তি বস্তাকে পাঞ্চিং ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করে কিশোরীরা তাদের অনুশীলন শুরু করে। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে কিছু বক্সিং গ্লাভস ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা সম্ভব হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ আর ধুলোর মধ্যেই চলে তাদের এই লড়াইয়ের প্রস্তুতি।
ক্যাপ্টেন ওসামা আইয়ুব, যিনি এই কিশোরীদের প্রশিক্ষক, বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান যে তাদের এই প্রশিক্ষণ বাধ্য হয়েই তাঁবুর ভেতরে করতে হচ্ছে। গাজা শহরে তাদের একটি সুসজ্জিত বক্সিং ক্লাব ছিল, কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় সেটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "ইসরায়েল আমাদের স্থাপনা ধ্বংস করেছে, কিন্তু আমাদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মনে যে ভীতি তৈরি করেছে, তা বক্সিংয়ের মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করছি আমরা।"
ফিলিস্তিনি কিশোরীদের মতে, মুহুর্মুহু বিমান হামলা এবং পরিবারের সদস্যদের হারানোর যে কষ্ট, তা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বক্সিংয়ের প্রতিটি পাঞ্চ যেন তাদের ভেতরের সেই ভয় আর ক্ষোভকে বের করে দিচ্ছে। আত্মরক্ষার কৌশল শেখার পাশাপাশি এই খেলা তাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছে।
গাজার এই অন্ধকার সময়ে বক্সিং এখন এই মেয়েদের কাছে প্রতিরোধের ভাষা এবং সাহসের প্রতীক। যেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির, সেখানে এই কিশোরীরা প্রমাণ করছে যে ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকেও জীবনের জয়গান গাওয়া সম্ভব।

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাজার দক্ষিণ অঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য তৈরি অস্থায়ী তাঁবুগুলোর মাঝেই এখন শোনা যাচ্ছে পাঞ্চিং ব্যাগের শব্দ। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা আর বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে বক্সিং বা ‘আভিজাত্যের শিল্প’ (Noble Art) চর্চায় মেতেছে একদল অদম্য কিশোরী। প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তারা কেবল শরীরচর্চা নয়, বরং নিজেদের মানসিক শক্তি ও টিকে থাকার লড়াই জারি রেখেছে।
গাজা উপত্যকার দক্ষিণ শহর খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় চারদিকে সারি সারি তাঁবু। এই অস্থায়ী আশ্রয়ের ধুলোবালির মাঝেই ১৬ বছরের কম বয়সী একদল কিশোরী নিয়মিত বক্সিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গাজার এই চরম মানবিক সংকটের মুহূর্তে বক্সিং তাদের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর নিরন্তর হামলার ফলে সৃষ্ট ট্রমা ও নেতিবাচক শক্তি দূর করার একটি প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বক্সিং ক্লাবের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রশিক্ষণের জন্য তাদের কাছে ছিল না কোনো গ্লাভস, ম্যাট বা আধুনিক জিম সরঞ্জাম। শুরুতে বালুভর্তি বস্তাকে পাঞ্চিং ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করে কিশোরীরা তাদের অনুশীলন শুরু করে। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে কিছু বক্সিং গ্লাভস ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা সম্ভব হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ আর ধুলোর মধ্যেই চলে তাদের এই লড়াইয়ের প্রস্তুতি।
ক্যাপ্টেন ওসামা আইয়ুব, যিনি এই কিশোরীদের প্রশিক্ষক, বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান যে তাদের এই প্রশিক্ষণ বাধ্য হয়েই তাঁবুর ভেতরে করতে হচ্ছে। গাজা শহরে তাদের একটি সুসজ্জিত বক্সিং ক্লাব ছিল, কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় সেটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "ইসরায়েল আমাদের স্থাপনা ধ্বংস করেছে, কিন্তু আমাদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মনে যে ভীতি তৈরি করেছে, তা বক্সিংয়ের মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করছি আমরা।"
ফিলিস্তিনি কিশোরীদের মতে, মুহুর্মুহু বিমান হামলা এবং পরিবারের সদস্যদের হারানোর যে কষ্ট, তা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বক্সিংয়ের প্রতিটি পাঞ্চ যেন তাদের ভেতরের সেই ভয় আর ক্ষোভকে বের করে দিচ্ছে। আত্মরক্ষার কৌশল শেখার পাশাপাশি এই খেলা তাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছে।
গাজার এই অন্ধকার সময়ে বক্সিং এখন এই মেয়েদের কাছে প্রতিরোধের ভাষা এবং সাহসের প্রতীক। যেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির, সেখানে এই কিশোরীরা প্রমাণ করছে যে ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকেও জীবনের জয়গান গাওয়া সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন