শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

জেরুজালেমে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বৃহৎ বিক্ষোভ

ইসরায়েলে ধর্মীয় ইহুদিদের ‘মিলিয়ন মার্চ’ ঘোষণা — সেনা নিয়োগের বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলে ধর্মীয় ইহুদিদের ‘মিলিয়ন মার্চ’ ঘোষণা — সেনা নিয়োগের বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি

ইসরায়েলে সেনা নিয়োগ আইন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ধর্মীয় দলগুলোর টানাপোড়েনের মধ্যে, দেশটির ধর্মীয় ইহুদি গোষ্ঠী ‘হরেদিম’ বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে এক “মিলিয়নীয় মিছিল” আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করছে, ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সেনায় টেনে নেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিয়োত আহরোনোত-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে ধর্মীয় ইহুদিদের (হরেদিম) এক বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে শীর্ষস্থানীয় রাব্বি ও বিভিন্ন ধর্মীয় দলের অনুসারীরা অংশ নেবেন। উদ্দেশ্য—সেনা নিয়োগের বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শন এবং ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের ‘সামরিক ছাড়’ পুনর্বহাল দাবি।

এই বিক্ষোভের সময়ই ইসরায়েলি পার্লামেন্ট কনেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটি বৈঠকে বসবে, যেখানে নতুন সামরিক ছাড় বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই বিলটি উত্থাপন করবেন লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য বোয়াজ বিসমুথ।

অপ্রত্যাশিতভাবে লিকুদ পার্টির কয়েকজন নেতা, এমনকি মন্ত্রীরাও মিছিলে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলের যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারাই স্থানীয় রেডিওতে বলেন, “যখন লক্ষ্য হয় তোরাহ অধ্যয়নকারীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, তখন অংশগ্রহণ করা একেবারেই যৌক্তিক।”

লিকুদের আরেক নেতা আবিহাই বোয়ারনও সমর্থন জানিয়েছেন, বলেন, “লিকুদ ও হরেদিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে—তোরাহ আমাদের জীবনের উৎস।”

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ এসব অংশগ্রহণের ঘোষণাকে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “লিকুদের ভোটাররা সেনায় যায়, যুদ্ধ করে, আহত হয়, প্রাণ দেয়; অথচ তাদের প্রতিনিধিরা এখন সেনা এড়িয়ে চলার সংস্কৃতি উৎসাহিত করছে।”

২০২৪ সালের ২৫ জুন ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, ধর্মীয় শিক্ষার্থীদেরও সেনায় যোগ দিতে হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান সেনা আইন মানে না, তাদের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এরপর থেকেই হরেদিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

প্রায় এক দশক ধরে হরেদিমরা সেনা নিয়োগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছে, মূলত ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে। বর্তমানে ইসরায়েলের ১ কোটি নাগরিকের প্রায় ১৩ শতাংশই এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যারা মনে করে—সেক্যুলার সমাজে একীভূত হওয়া তাদের ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি।

বিরোধীরা অভিযোগ করছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ধর্মীয় দলগুলোর দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছেন। “শাস” ও “ইউনাইটেড তোরাহ জুডেইজম” দল দুটো আগেই সরকারের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করলেও, সেনা ছাড় আইন পাস হলেই তারা সরকারে ফিরবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিষয় : ইসরায়েল ইহুদি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলে ধর্মীয় ইহুদিদের ‘মিলিয়ন মার্চ’ ঘোষণা — সেনা নিয়োগের বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

ইসরায়েলে সেনা নিয়োগ আইন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ধর্মীয় দলগুলোর টানাপোড়েনের মধ্যে, দেশটির ধর্মীয় ইহুদি গোষ্ঠী ‘হরেদিম’ বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে এক “মিলিয়নীয় মিছিল” আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করছে, ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সেনায় টেনে নেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিয়োত আহরোনোত-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে ধর্মীয় ইহুদিদের (হরেদিম) এক বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে শীর্ষস্থানীয় রাব্বি ও বিভিন্ন ধর্মীয় দলের অনুসারীরা অংশ নেবেন। উদ্দেশ্য—সেনা নিয়োগের বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শন এবং ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের ‘সামরিক ছাড়’ পুনর্বহাল দাবি।

এই বিক্ষোভের সময়ই ইসরায়েলি পার্লামেন্ট কনেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটি বৈঠকে বসবে, যেখানে নতুন সামরিক ছাড় বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই বিলটি উত্থাপন করবেন লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য বোয়াজ বিসমুথ।

অপ্রত্যাশিতভাবে লিকুদ পার্টির কয়েকজন নেতা, এমনকি মন্ত্রীরাও মিছিলে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলের যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারাই স্থানীয় রেডিওতে বলেন, “যখন লক্ষ্য হয় তোরাহ অধ্যয়নকারীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, তখন অংশগ্রহণ করা একেবারেই যৌক্তিক।”

লিকুদের আরেক নেতা আবিহাই বোয়ারনও সমর্থন জানিয়েছেন, বলেন, “লিকুদ ও হরেদিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে—তোরাহ আমাদের জীবনের উৎস।”

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ এসব অংশগ্রহণের ঘোষণাকে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “লিকুদের ভোটাররা সেনায় যায়, যুদ্ধ করে, আহত হয়, প্রাণ দেয়; অথচ তাদের প্রতিনিধিরা এখন সেনা এড়িয়ে চলার সংস্কৃতি উৎসাহিত করছে।”

২০২৪ সালের ২৫ জুন ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, ধর্মীয় শিক্ষার্থীদেরও সেনায় যোগ দিতে হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান সেনা আইন মানে না, তাদের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এরপর থেকেই হরেদিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

প্রায় এক দশক ধরে হরেদিমরা সেনা নিয়োগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছে, মূলত ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে। বর্তমানে ইসরায়েলের ১ কোটি নাগরিকের প্রায় ১৩ শতাংশই এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যারা মনে করে—সেক্যুলার সমাজে একীভূত হওয়া তাদের ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি।

বিরোধীরা অভিযোগ করছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ধর্মীয় দলগুলোর দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছেন। “শাস” ও “ইউনাইটেড তোরাহ জুডেইজম” দল দুটো আগেই সরকারের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করলেও, সেনা ছাড় আইন পাস হলেই তারা সরকারে ফিরবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ