শহীদ ওসমান হাদীর নির্মম হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় বিচারহীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ বলেছেন, হামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার দায় রাষ্ট্র ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এড়াতে পারে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।"
আজ শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বাদ জুমআ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রা ও সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের পরিচালনায় এতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এ সমর্থন
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, "৫ আগস্টের পর যারা সুশীল সাজেন, শহীদ হাদীর ইস্যুতে আজ তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাদীকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব নয়।" তিনি নির্বাচন কমিশনারের অযাচিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিচারহীনতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
মুনতাছির আহমাদ তার বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেই রাষ্ট্রেই যদি জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদীর হত্যার বিচার না হয়, তবে এর নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, ফেলানী থেকে আবরার হয়ে ওসমান হাদী—এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ভিনদেশি আধিপত্যবাদ আমাদের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
পদযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীলসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল পদযাত্রা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মতামত