বর্তমান বিশ্বে তথাকথিত ‘এলজিবিটি প্রোপাগান্ডা’ বা লিঙ্গহীন সমাজ গঠনের ধারণাটি একটি বিশ্বব্যাপী চাপে পরিণত হয়েছে, যার প্রধান লক্ষ্য মূলত কোমলমতি শিশু এবং তরুণ প্রজন্ম। কার্টুন, সিনেমা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে এই আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের ‘বিগ ফ্যামিলি প্ল্যাটফর্ম’ এর সাধারণ সম্পাদক সেরদার এরিলমাজ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টিকে ‘সামাজিক-সাংস্কৃতিক সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এটি প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় ‘বিগ ফ্যামিলি প্ল্যাটফর্ম’-এর সাধারণ সম্পাদক সেরদার এরিলমাজ এলজিবিটি প্রোপাগান্ডার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৯-২০২০ সাল থেকে তারা এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন। বর্তমানে এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী এজেন্ডা বা চাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কার্টুন ও বিনোদনের মাধ্যমে মগজ ধোলাই
এরিলমাজ সতর্ক করে বলেন, "লিঙ্গহীন প্রাণী এবং বাবা-মায়ের চিরাচরিত ভূমিকা পাল্টে দিয়ে নতুন ধরনের কার্টুন তৈরি করা হচ্ছে। আমরা কিছু বোঝার আগেই আমাদের সন্তানদের মনে এসব ইনজেকশনের মতো পুশ করা হচ্ছে। ফলে শিশুদের চিন্তার জগত সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।" তিনি একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে জানান, একটি কার্টুনে দুটি মেয়ে শিশুকে চুমু খেতে দেখানো হয়েছে এবং তাদের বন্ধুরা সেটি উদযাপন করছে—যা তুরস্কের প্রায় ৮০ লাখ শিশু দেখেছে।
বিপুল অর্থের যোগান
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২২ সালে শুধুমাত্র তুরস্কে এলজিবিটি প্রোপাগান্ডার জন্য ৭৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকার বেশি) ব্যয় করা হয়েছে। এই বিশাল বাজেটের একটি অংশ ব্যয় করা হয় লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারে। এরিলমাজ অভিযোগ করেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসাকেন্দ্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গোপনে এসব অস্ত্রোপচার করছে, যার বিরুদ্ধে তারা আইনি তদন্ত শুরু করতে সক্ষম হয়েছেন।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ
২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৭-২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ৪৬.৭ শতাংশ মনে করে সমকামিতা জন্মগত। এরিলমাজ এই ধারণাকে ভুল আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি মূলত অপপ্রচারের ফল। ইতোমধ্যে রাশিয়া, চীন এবং পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্তত ২৪টি দেশে এলজিবিটি প্রোপাগান্ডা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তুরস্ককেও এই তালিকায় যুক্ত করার জন্য তারা কাজ করছেন।
তুরস্কের প্রায় ৪০০টিরও বেশি এনজিও এবং ৩ শতাধিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ এই আন্দোলনের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
- প্রচারণা নিষিদ্ধকরণ: সোশ্যাল মিডিয়া, নেটফ্লিক্স এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুর্কি সংস্কৃতির পরিপন্থী এলজিবিটি প্রচারণা বন্ধে আইন করা।
- বয়স সীমা নির্ধারণ: ২৫ বছরের নিচে লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচার এবং ১৮ বছরের আগে হরমোন থেরাপি নিষিদ্ধ করা।
- পরিবার সুরক্ষা: পাঠ্যপুস্তক এবং মিডিয়া থেকে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ বা সামাজিক লিঙ্গ সমতার নামে বিভ্রান্তিকর শব্দ বাদ দেওয়া।
ইতোমধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি তুরস্কের সংসদে দেড় লক্ষাধিক মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি আবেদন জমা দিয়েছে। তাদের মতে, এটি কোনো ঘৃণা ছড়ানোর বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি পরিকল্পিত ‘সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ’ থেকে রক্ষা করার লড়াই।
মতামত