শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি আগ্রাসনের ট্রমা কাটাতে এবং মনোবল ধরে রাখতে বালুর ওপর চলছে ভবিষ্যৎ গড়ার যুদ্ধ

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই: গাজায় শরণার্থী শিশুদের কারাতে প্রশিক্ষণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই: গাজায় শরণার্থী শিশুদের কারাতে প্রশিক্ষণ

ইসরায়েলের অব্যাহত ও নির্বিচার হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই বড় হচ্ছে হাজারো শিশু। ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া এসব শিশু ও কিশোরদের জন্য খেলাধুলা হয়ে উঠেছে মানসিক বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সেই বাস্তবতায়, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আশার আলো জ্বালানোর চেষ্টা করছেন গাজাবাসী একদল প্রশিক্ষক।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে যাওয়া শিশু ও তরুণরা বর্তমানে খান ইউনুসের অধীন মেওয়াসি এলাকায় তাঁবু ক্যাম্পে বসবাস করছে। প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা, ভয় ও স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেও তারা কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।

স্থানীয় কারাতে প্রশিক্ষক হালিল শাগালেহ, যিনি ফিলিস্তিন কারাতে ফেডারেশন অনুমোদিত একজন কোচ, হামলার আগে নিজের একটি কারাতে একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতেন। তবে ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় তাঁর সেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায় সব সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ উপকরণ।

আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাগালেহ বলেন,

“ইসরায়েলি হামলায় আমাদের জিমের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এখন আমরা বালির ওপর, তাঁবুর মাঝেই অনুশীলন করছি। কারও সাদা পোশাক, কারও নীল পোশাক—যা আছে তাই দিয়েই চলছে। এই শিশুরা মৃত্যু, ধ্বংস আর ক্ষুধার মধ্যেই বড় হচ্ছে। খেলাধুলা তাদের শরীরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানসিকভাবে বাঁচিয়ে রাখছে। কারাতে অন্তত কিছু সময়ের জন্য তাদের যুদ্ধের ভয় ভুলিয়ে দেয়।”

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু শারীরিক ব্যায়ামে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য খেলাধুলা এক ধরনের মনোসামাজিক সহায়তা, যা ট্রমা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। মেওয়াসিতে তাঁবুর ফাঁকে ফাঁকে চলা এই কারাতে ক্লাস শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সহমর্মিতা তৈরি করছে।

একই উদ্যোগে যুক্ত আছেন ২১ বছর বয়সী তরুণী প্রশিক্ষক ইয়াসমিন শাগালেহ। তিনি বলেন,

“হামলার পর সবকিছু থেমে গিয়েছিল। ক্লাব বন্ধ ছিল, খেলাধুলা ছিল না। কিন্তু শিশুদের কথা ভেবে আমরা আবার শুরু করি। আমরা চাই তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত হোক। আমার স্বপ্ন, এদের কেউ একদিন বিদেশে গিয়ে মেডেল জিতবে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আমরা যেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করতে পেরেছি, সেগুলো দিয়েই আবার প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা হাল ছাড়িনি।”

প্রশিক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেলে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। শাগালেহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,

“এই শিশুরা মানুষ, এদের স্বপ্ন আছে। দয়া করে তাদের দিকে তাকান, তাদের পাশে দাঁড়ান।”

যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও কারাতে হয়ে উঠেছে গাজার শিশুদের জন্য প্রতিরোধ, আশা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক নীরব ভাষা।

বিষয় : গাজা ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই: গাজায় শরণার্থী শিশুদের কারাতে প্রশিক্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের অব্যাহত ও নির্বিচার হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই বড় হচ্ছে হাজারো শিশু। ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া এসব শিশু ও কিশোরদের জন্য খেলাধুলা হয়ে উঠেছে মানসিক বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সেই বাস্তবতায়, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আশার আলো জ্বালানোর চেষ্টা করছেন গাজাবাসী একদল প্রশিক্ষক।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে যাওয়া শিশু ও তরুণরা বর্তমানে খান ইউনুসের অধীন মেওয়াসি এলাকায় তাঁবু ক্যাম্পে বসবাস করছে। প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা, ভয় ও স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেও তারা কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।

স্থানীয় কারাতে প্রশিক্ষক হালিল শাগালেহ, যিনি ফিলিস্তিন কারাতে ফেডারেশন অনুমোদিত একজন কোচ, হামলার আগে নিজের একটি কারাতে একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতেন। তবে ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় তাঁর সেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায় সব সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ উপকরণ।

আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাগালেহ বলেন,

“ইসরায়েলি হামলায় আমাদের জিমের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এখন আমরা বালির ওপর, তাঁবুর মাঝেই অনুশীলন করছি। কারও সাদা পোশাক, কারও নীল পোশাক—যা আছে তাই দিয়েই চলছে। এই শিশুরা মৃত্যু, ধ্বংস আর ক্ষুধার মধ্যেই বড় হচ্ছে। খেলাধুলা তাদের শরীরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানসিকভাবে বাঁচিয়ে রাখছে। কারাতে অন্তত কিছু সময়ের জন্য তাদের যুদ্ধের ভয় ভুলিয়ে দেয়।”

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু শারীরিক ব্যায়ামে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য খেলাধুলা এক ধরনের মনোসামাজিক সহায়তা, যা ট্রমা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। মেওয়াসিতে তাঁবুর ফাঁকে ফাঁকে চলা এই কারাতে ক্লাস শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সহমর্মিতা তৈরি করছে।

একই উদ্যোগে যুক্ত আছেন ২১ বছর বয়সী তরুণী প্রশিক্ষক ইয়াসমিন শাগালেহ। তিনি বলেন,

“হামলার পর সবকিছু থেমে গিয়েছিল। ক্লাব বন্ধ ছিল, খেলাধুলা ছিল না। কিন্তু শিশুদের কথা ভেবে আমরা আবার শুরু করি। আমরা চাই তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত হোক। আমার স্বপ্ন, এদের কেউ একদিন বিদেশে গিয়ে মেডেল জিতবে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আমরা যেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করতে পেরেছি, সেগুলো দিয়েই আবার প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা হাল ছাড়িনি।”

প্রশিক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেলে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। শাগালেহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,

“এই শিশুরা মানুষ, এদের স্বপ্ন আছে। দয়া করে তাদের দিকে তাকান, তাদের পাশে দাঁড়ান।”

যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও কারাতে হয়ে উঠেছে গাজার শিশুদের জন্য প্রতিরোধ, আশা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক নীরব ভাষা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত