বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-এর ১৫ শতাংশ ভূমি ২০৩০ সালের মধ্যে দখলে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নতুন এই প্রস্তাব পাস করেছে নেতানিয়াহু সরকার।

পশ্চিম তীরের ভূমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের ঘোষণা ইসরায়েলের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পশ্চিম তীরের ভূমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের ঘোষণা ইসরায়েলের

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের এক বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার। রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক আইন ও পূর্ববর্তী চুক্তিসমূহকে উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ যৌথভাবে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান' এর তথ্যমতে, এই পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলের অন্তত ১৫ শতাংশ ভূমিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হিসেবে নথিভুক্ত করা।

১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। 'এরিয়া সি' (যা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ) বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক ও বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে, যেসব ভূমির মালিকানা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি নেই, সেগুলোকে সরাসরি ইসরায়েলি ‘স্টেট ল্যান্ড’ বা সরকারি খাস জমি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর ফলে কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা ছাড়াই ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদারি আইনত শক্তিশালী হবে।

অসলো চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA) শুধুমাত্র এরিয়া ‘এ’ এবং ‘বি’ তে ভূমি নিবন্ধন করতে পারে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ‘এরিয়া সি’-তে ভূমি বিক্রির অনুমতি, ফি সংগ্রহ এবং মালিকানা নিবন্ধনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েলের 'কোঅর্ডিনেশন অফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস ইন দ্য টেরিটরিজ' -এর হাতে। এছাড়া হিব্রন সংলগ্ন জনবসতিগুলোতে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতাও ফিলিস্তিনি মিউনিসিপ্যালিটি থেকে কেড়ে নিয়ে ইসরায়েলি সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এক ঐতিহাসিক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিল এবং সমস্ত বসতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সেই রায় উপেক্ষা করেই ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তাদের বসতি সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার, উচ্ছেদ এবং ভূমি দখলের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বিষয় : ইসরায়েল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পশ্চিম তীরের ভূমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের ঘোষণা ইসরায়েলের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের এক বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার। রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক আইন ও পূর্ববর্তী চুক্তিসমূহকে উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ যৌথভাবে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান' এর তথ্যমতে, এই পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলের অন্তত ১৫ শতাংশ ভূমিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হিসেবে নথিভুক্ত করা।

১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। 'এরিয়া সি' (যা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ) বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক ও বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে, যেসব ভূমির মালিকানা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি নেই, সেগুলোকে সরাসরি ইসরায়েলি ‘স্টেট ল্যান্ড’ বা সরকারি খাস জমি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর ফলে কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা ছাড়াই ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদারি আইনত শক্তিশালী হবে।

অসলো চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA) শুধুমাত্র এরিয়া ‘এ’ এবং ‘বি’ তে ভূমি নিবন্ধন করতে পারে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ‘এরিয়া সি’-তে ভূমি বিক্রির অনুমতি, ফি সংগ্রহ এবং মালিকানা নিবন্ধনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েলের 'কোঅর্ডিনেশন অফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস ইন দ্য টেরিটরিজ' -এর হাতে। এছাড়া হিব্রন সংলগ্ন জনবসতিগুলোতে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতাও ফিলিস্তিনি মিউনিসিপ্যালিটি থেকে কেড়ে নিয়ে ইসরায়েলি সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এক ঐতিহাসিক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিল এবং সমস্ত বসতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সেই রায় উপেক্ষা করেই ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তাদের বসতি সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার, উচ্ছেদ এবং ভূমি দখলের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ