শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

নদীতে ইফতারের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা; সংকটে অভিযুক্ত মুসলিম যুবকরা

বারাণসীতে গঙ্গাবক্ষে ইফতার: ১৪ যুবকের জামিন নামঞ্জুর, মামলাকে ‘গুরুতর’ আখ্যা আদালতের



বারাণসীতে গঙ্গাবক্ষে ইফতার: ১৪ যুবকের জামিন নামঞ্জুর, মামলাকে ‘গুরুতর’ আখ্যা আদালতের

গঙ্গাবক্ষে নৌকায় ইফতার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন মুসলিম যুবকের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বারাণসীর একটি আদালত। অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার যাদব সোমবার এই আদেশ দিয়ে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং জামিন অযোগ্য। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং এই মামলাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মার্চ, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক পবিত্র রমজান মাসে গঙ্গা নদীর ওপর একটি নৌকায় বসে ইফতার করছেন। অভিযোগ ওঠে যে, তারা সেখানে আমিষ (চিকেন) আহার করেছেন এবং উচ্ছিষ্ট অংশ পবিত্র নদীতে নিক্ষেপ করেছেন। যদিও ভিডিওতে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু ফেলার প্রমাণ মেলেনি, তবুও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং যুবকদের গ্রেপ্তার করে।

​শুরুতে পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনউপদ্রব এবং জল দূষণ প্রতিরোধ আইনের (১৯৭৪) বিভিন্ন ধারায় মামলা করে, যা সাধারণত জামিনযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন যুবকের মধ্যে রয়েছেন আজাদ আলী, আমির কাইফি, দানিশ সাইফি, নেহাল আফ্রিদি এবং মাহফুজ আলমের মতো ব্যক্তিরা। গত ১৯ মার্চ তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।

​মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন নৌকা মালিকরা অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক নৌকাটি ব্যবহার করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮(৫) ধারা (গুরুতর আঘাত বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তোলাবাজি) যুক্ত করে। এটি একটি গুরুতর জামিন অযোগ্য ধারা। এই নতুন ধারার কারণেই আদালত জামিন দিতে অস্বীকার করেন।

​বিচারক অমিত কুমার যাদব তার আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অপরাধের প্রকৃতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই মুহূর্তে জামিন দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। পুলিশি তদন্ত এবং নৌকা মালিকদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের পরিবার এবং আইনজীবীরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


বারাণসীতে গঙ্গাবক্ষে ইফতার: ১৪ যুবকের জামিন নামঞ্জুর, মামলাকে ‘গুরুতর’ আখ্যা আদালতের

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

গঙ্গাবক্ষে নৌকায় ইফতার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন মুসলিম যুবকের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বারাণসীর একটি আদালত। অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার যাদব সোমবার এই আদেশ দিয়ে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং জামিন অযোগ্য। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং এই মামলাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মার্চ, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক পবিত্র রমজান মাসে গঙ্গা নদীর ওপর একটি নৌকায় বসে ইফতার করছেন। অভিযোগ ওঠে যে, তারা সেখানে আমিষ (চিকেন) আহার করেছেন এবং উচ্ছিষ্ট অংশ পবিত্র নদীতে নিক্ষেপ করেছেন। যদিও ভিডিওতে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু ফেলার প্রমাণ মেলেনি, তবুও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং যুবকদের গ্রেপ্তার করে।

​শুরুতে পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনউপদ্রব এবং জল দূষণ প্রতিরোধ আইনের (১৯৭৪) বিভিন্ন ধারায় মামলা করে, যা সাধারণত জামিনযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন যুবকের মধ্যে রয়েছেন আজাদ আলী, আমির কাইফি, দানিশ সাইফি, নেহাল আফ্রিদি এবং মাহফুজ আলমের মতো ব্যক্তিরা। গত ১৯ মার্চ তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।

​মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন নৌকা মালিকরা অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক নৌকাটি ব্যবহার করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮(৫) ধারা (গুরুতর আঘাত বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তোলাবাজি) যুক্ত করে। এটি একটি গুরুতর জামিন অযোগ্য ধারা। এই নতুন ধারার কারণেই আদালত জামিন দিতে অস্বীকার করেন।

​বিচারক অমিত কুমার যাদব তার আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অপরাধের প্রকৃতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই মুহূর্তে জামিন দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। পুলিশি তদন্ত এবং নৌকা মালিকদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের পরিবার এবং আইনজীবীরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত